প্রথম দেখায় মনে হবে এটি বাসা বাড়ি। কিন্তু না, এটি সরকারি অফিস। এখানেই দুই সন্তানকে বড় করছেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানাজ আক্তার।
দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (৬ মে) ১১.৪৫ দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য অফিসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধরনের পুতুল ও খেলনা সামগ্রী। ব্যবহারের জন্য রয়েছে একাধিক পোষাকসহ জামা কাপড়। তাদের খাওয়া-ধাওয়া ও পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন অফিস সহায়ক রাহিমা। দাপ্তরিক কাজের পরিবর্তে সরকারি কম্পিউটার ব্যবহার করে গান শুনিয়ে ও কার্টুন দেখিয়ে বাচ্চাদের বিনোদন দিচ্ছেন সেই অফিস সহায়িকা। বিনোদনের ফাঁকে ফাঁকে রাহিমা নিজ হাতে শাহানাজের দুই বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানাজ আক্তার আড়াই বছর পূর্বে এই উপজেলায় যোগদান করেন। পরিবার নিয়ে উপজেলা পরিষদের বাহিরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিসে গেলেই দেখা যায়, তার দুই সন্তান অফিস রুমে দৌড়াদৌড়ি করছেন এবং চেয়ার-টেবিল নিয়ে খেলাধুলায় মেতে আছেন। অফিসের দাপ্তরিক কাজ বাদ দিয়ে তিনিও সন্তানদের সাথে ব্যস্ত সময় কাটান। এতে করে সেবা নিতে আসা নারীদের বিড়ম্বার শিকার হতে হয়। এমন চিত্র নিত্য দিনের।
শাহানাজ আক্তারের বাসায় কাজের লোক থাকলেও তিনি দুই বাচ্চাকে বাসায় না রেখে প্রতিদিন সঙ্গে করে অফিসে নিয়ে আসেন। তাদের দেখভাল করছেন অফিস সহায়ক রাহিমা।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানাজ আক্তার নিজ রুমে না থেকে পাশের রুমে সময় কাটাচ্ছেন। আর দুই বাচ্চার মধ্যে বড় মেয়েকে চেয়ারের হাতলে ও ছোট বাচ্চাকে পাশে আরেকটি চেয়ারে বসিয়ে অফিস সহায়ক রাহিমা সরকারি কম্পিউটারে কার্টুন দেখাচ্ছে। পাশাপাশি বাসা থেকে নিয়ে আসা খাবার তাদের খাওয়াচ্ছে।
এ সময় এই প্রতিবেদককে দেখে রাহিমা চমকে উঠেন এবং দ্রুত পাশের রুমে থাকা শাহানাজ আক্তারকে ডেকে আনেন।
অফিস সহায়ক রাহিমার কাছে বাচ্চাদের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ওরা আমাদের ম্যাডামের বাচ্চা। ম্যাডাম পাশের রুমে কাজে ব্যস্ত থাকায় আমি তাদের দেখাশুনা করছি।
আপনি কি নিয়মিত বাচ্চাদের দেখাশুনা করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি চুপ থাকেন।
বাচ্চাদেরকে সঙ্গে নিয়ে অফিস করার সরকারি নিয়মে আছে কি না এই সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় শাহানাজ আক্তারের কাছে, তিনি বলেন সরকারি নিয়ম কী সেটা আমি জানিনা। নিরাপত্তা ও দেখাশুনাজনিত কারণে আমি আমার বাচ্চাদেরকে নিয়মিত অফিসে নিয়ে আসি।
এ সময় তিনি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, সরকার তো আমাদের বাচ্চাদের রাখার জন্য বেবি কেয়ার তৈরি করে দেয়নি। আমার বাসায় কাজের লোক থাকলেও টানা ৭/৮ ঘন্টা বাচ্চাদেরকে তার কাছে রাখা নিরাপদ মনে করি না। যার ফলে আমি তাদের সঙ্গে নিয়ে আসি।
আপনার বাচ্চাদের দেখার দায়িত্ব কি অফিস সহায়ক রাহিমাকে দিয়েছেন এমন প্রশ্নের উত্তের তিনি বলেন, আমি অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকলে সে তাদের দেখাশুনা করে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বাসার কাউকে অফিসে আনা নিষেধ। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। আমি ওই কর্তাকর্তার কথা বলে দেখতেছি।
আরটিভি/এমএম



