বাংলাদেশে অফিসগুলোতে কর্মজীবী মায়েদের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ ডে কেয়ার সেন্টারের অভাব। অনেক ক্ষেত্রেই এই ডে কেয়ার সুবিধা না থাকায় কর্মজীবনের একটা পর্যায়ে গিয়ে ক্যারিয়ার বিসর্জন দিতে বাধ্য হন দক্ষ নারী পেশাজীবীরা। আর যারা মাটি কামড়ে চাকরিতে লেগে থাকেন, তাদের অনেককেই যেতে হয় অতিরিক্ত সাংসারিক ঝামেলার মধ্য দিয়ে; সেইসঙ্গে ক্যারিয়ারে পিছিয়ে পড়া তো আছেই। আর, সরকারি অফিসগুলোতে এই একটি সুবিধার অভাবে কষ্ট ভোগ হয় সেবাগ্রহীতাদেরও।
এমনই এক নজির দেখা যাচ্ছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। ডে কেয়ারের অভাবে অফিস কক্ষেই দুই সন্তানকে সামলে কাজ করে যেতে হচ্ছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানাজ আক্তারকে। এই কাজ-সন্তান একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছেন না তিনি। আর সেবা না পেয়ে রুষ্ট হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারাও, করছেন অভিযোগ-অনুযোগ।
বুধবার (৬ মে) পৌনে ১২টার দিকে সরেজমিনে শাহানাজ আক্তারের অফিস কক্ষে ঢুকে দেখা যায়, বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য অফিসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধরনের পুতুল ও খেলনা সামগ্রী। দেখা গেলে বাচ্চাদের অতিরিক্ত জামা-কাপড়ও। শাহানাজ আক্তারের পাশাপাশি তার সন্তানদের খাওয়া-দাওয়া ও পরিচর্যা করেন অফিস সহায়ক রাহিমাও।
জানা গেছে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানাজ আক্তার আড়াই বছর পূর্বে এই চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় যোগদান করেন। পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন উপজেলা পরিষদের বাইরে একটি ভাড়া বাসায়। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিসে গেলেই দেখা যায়, তার দুই সন্তান অফিস রুমে দৌড়াদৌড়ি করছেন এবং চেয়ার-টেবিল নিয়ে খেলাধুলায় মেতে আছেন। এতে অনেক সময়ই বিড়ম্বনায় পড়ছেন সেবা নিতে যাওয়া নারীরা।
অফিস সহায়ক রাহিমার কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ওরা আমাদের ম্যাডামের বাচ্চা। ম্যাডাম পাশের রুমে কাজে ব্যস্ত থাকায় আমি তাদের দেখাশুনা করছি। বাসা দূরে থাকায় দুই বাচ্চাকে রেখে আসতে ভয় পান তিনি।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শাহানাজ আক্তার বলেন, সরকার তো আমাদের বাচ্চাদের রাখার জন্য বেবি কেয়ার তৈরি করে দেয়নি। আমার বাসায় কাজের লোক থাকলেও টানা ৭-৮ ঘন্টা বাচ্চাদেরকে তার কাছে রাখা নিরাপদ মনে করি না। এজন্য বাধ্য হয়ে আমি তাদের সঙ্গে নিয়ে আসি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই নারী। বর্তমানে ৫ লাখেরও বেশি নারী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে। অথচ, এই বিশাল জনশক্তির জন্য নেই পর্যাপ্ত সুবিধা। বিশেষ করে, ডে কেয়ারের অভাব বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে কর্মজীবী মায়েদের।
দেশে ২০০১ সালে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন পাস হলেও এর বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় এর পূর্ণ বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে। খুব অল্প সংখ্যক অফিসে ডে কেয়ার থাকলেও সেবার মান নিয়ে আছে প্রশ্ন। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষতা থাকলেও সে অনুযায়ী সেবা দিতে পারছেন না অনেক কর্মজীবী মা।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিন বলেন, ওই অফিসে ডে কেয়ার নেই, আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমি ওই কর্মকর্তার কথা বলে দেখছি।
আরটিভি/এসএইচএম




