মাইকে ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে কারাগারে যাওয়ার ৬০ দিন পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকাল ৩টায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটক থেকে তিনি পায়ে হেটে বের হন।
এর আগে জেল গেটে তার বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে নিতে অপেক্ষায় থাকেন।
ইমি জানান, ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় তিনি জামিন পান। আইনি জটিলতার কারণে সাতদিন পর মুক্ত হন তিনি।
এ সময় ইমি বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করি, শ্রদ্ধা করি। সেই সুবাদে আমি ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়েছিলাম। এটা কি অন্যায়? যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি তারা মব সৃষ্টি করে আমাদের থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং মিথ্যা মামলায় আমাকে দু’মাস জেলে আটকিয়ে রেখেছে। একদিন দেশবাসি এর বিচার করবে।
তার পিতা শেখ গোলাম ইকবাল বলেন, আমি একজন গর্বিত পিতা এ জন্য যে, আমার মেয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলার কারণে মবের শিকার হয়ে কারা নির্যাতিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেদিন আমার মেয়ে মাইকে ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়েছিল সেদিন তো টিভি চ্যানেল গুলোতেও ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার হয়েছে। সেটা অন্যায় হলো না, আর আমার মেয়ে ভাষণ বাজালো- এটা অন্যায় হলো? এটা জাতির কাছে আমার প্রশ্ন। আমার মেয়ে সঠিক করেছে, না ভুল করেছে- আমি সেই বিচার জনগণের কাছে ছেড়ে দিলাম।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৭ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে ভাষণ বাজানো কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইমিসহ কয়েকজন। রিকশায় করে মাইকে ভাষণ বাজানোর সময় ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের, মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরসহ ঢাবি শিক্ষার্থীদের একটি দল তাতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী রিকশাসহ ইমি ও আরেকজনকে জোর করে ধরে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান। পরে পুলিশ তাদের আটক করে রাখে। পরদিন রোববার আটক তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে শাহবাগ থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
আরটিভি/এমএম




