চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) জাকিয়া সুলতানা জুথি নামে এক শিক্ষিকা বিরল ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জাকিয়া সুলতানা জুথি সিভাসুর ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফ্যাকাল্টির ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ছিলেন।
দুই সপ্তাহ আগে তিনি বান্দরবানে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে খিঁচুনি দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জুথির সহকর্মীরা জানান, তিনি সামান্য জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও বমি নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ৪ মে। ধারণায় ছিলো সাধারণ কোনো ফ্লু। তারপর অবস্থার অবনতি হলে ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার ‘মাল্টিপল স্ট্রোক’ হয়। ব্রেন ডেড হয়ে পড়েন জুথি। দ্রুত লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মারা যান।
শনিবার (২ মে) রাতে তার জ্বর আসে। রোববার (৩ মে) জ্বরের সঙ্গে বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে জুথি নিজেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ধারণায় ছিলো সাধারণ কোনো ফ্লু।
পরে, সেখান থেকে তাকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সোমবার (৪ মে) ভোরে জুথির তীব্র খিঁচুনি হয় এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তার ‘মাল্টিপল স্ট্রোক’ হয়। দ্রুত তার মাথার এমআরআই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় তার মস্তিষ্কে ক্ষতির বিষয়টি ধরা পড়ে। দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মারা যান।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডক্টর আব্দুস সাত্তার আরটিভিকে জানান, সিভাসুর শিক্ষিকার সকল পরীক্ষার রিপোর্ট দেখা হয়েছে। ‘জাপানিজ এনসেফালাইটিস’ নামক এক ভয়ংকর ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন ধারনা করা হচ্ছে। তার শরীরে বিরল এ রোগের সব লক্ষণ বিদ্যমান ছিলো। সাধারণত কিউলেক্স মশার কামড়ে এ রোগ হয়। এটি সরাসরি মস্তিষ্কে আঘাত করে। ফলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে রোগীর মৃত্যু হয়।
আরটিভি/টিআর




