ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

একাত্তরের বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর চিরবিদায়

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর শেষকৃত্যে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার মহান মুক্তিযুদ্ধের সাহসী বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী (৭২) আর নেই।

বুধবার (১৩ মে) উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ।

একাত্তরের যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছিল তার শৈশব, স্বাভাবিক জীবন আর সম্মানের নিরাপদ আশ্রয়। সেই অন্ধকার সময়ের ক্ষত বয়ে তিনি আজীবন বেঁচে ছিলেন এক অব্যক্ত যন্ত্রণার সঙ্গে। স্বাধীনতার জন্য নিজের সম্ভ্রম বিসর্জন দেওয়া সেই বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী (৭২) চিরবিদায় নিলেন পৃথিবী থেকেও। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামে। কান্নায় ভেঙে পড়েছে স্বজন ও গ্রামবাসী। তার জীবন ও ত্যাগ যেন মুক্তিযুদ্ধের এক গভীর ইতিহাস হয়ে রইল।

তার শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম, রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

টেপরী রাণী ছিলেন ওই উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামের বাসিন্দা মৃত মধুদাস রায়ের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে টেপরী রাণীর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। চারদিকে তখন যুদ্ধের ভয়াবহতা। পরিবারের সদস্যদের প্রাণ রক্ষার আশায় অসহায় এক বাবা মেয়ে টেপরী রাণীকে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে তুলে দিতে বাধ্য হন। সেই যাত্রায় বাবা-মেয়ের মধ্যে কোনো কথা হয়নি, ছিল শুধু নীরব কান্না আর আতঙ্কে ভারী হয়ে ওঠা পরিবেশ।

এরপর টানা সাত মাস পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হন টেপরী রাণী। নিজের সম্ভ্রম বিসর্জন দিয়ে তিনি রক্ষা করেছিলেন পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবন।

আরও পড়ুন

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি ফেরেন তিনি। কিন্তু স্বাধীনতার পরও সমাজ তাকে আপন করে নেয়নি। অনাগত সন্তানকে নষ্ট করে ফেলার জন্য নানা চাপ আসে চারদিক থেকে। তখন মেয়ের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান তার বাবা। তিনি বলেছিলেন, এই সন্তানই হবে তোর বেঁচে থাকার অবলম্বন।

পরে জন্ম হয় ছেলে সুধীর বর্মনের। কিন্তু সমাজের কটূক্তি পিছু ছাড়েনি তাদের। ছোটবেলা থেকেই সুধীরকে ‘পাঞ্জাবির বাচ্চা’ বলে অপমান করা হতো। বর্তমানে তিনি পেশায় একজন ভ্যানচালক।

দীর্ঘ অবহেলার পর ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের সাহসী বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পান টেপরী রাণী। পরের বছর তার জীবনের আত্মত্যাগের গল্প প্রকাশ্যে এলে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, টেপরী রাণী শুধু একজন বীরাঙ্গনা নন, তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস। তার জীবন দেশের স্বাধীনতার জন্য নারীদের আত্মত্যাগের গভীরতা স্মরণ করিয়ে দেয়।

ছেলে সুধীর বর্মন বলেন, আমাকে নিয়ে মাকে অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু দেশের জন্য মায়ের যে ত্যাগ, সেটা কখনও ভোলার নয়। ২০১৭ সালে মা বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাওয়ার পর আমাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি আসে।

এ বিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। দেশের জন্য তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

আরটিভি/কেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে তুমুল মারামারি, পুলিশ মোতায়েন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তার পরিবারের লোকজনের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে রাকিব নামে এক যুবক ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে তুমুল মারামারি, পুলিশ মোতায়েন
আমনের মাঠে ইঁদুরের হানা, কৃষকের স্বপ্নে দুশ্চিন্তার ছায়া
সবুজে মোড়ানো মাঠ। বাতাসে দুলছে আমন ধানের গাছ। ধানগাছে শীষ আসার অপেক্ষায় বুক বেঁধেছেন কৃষক। সেচ, সার, শ্রম আর পরিচর্যায় গড়ে তোলা সেই স্বপ্নের ফসল ঘরে তোলার দিন গুনছেন তারা।
আমনের মাঠে ইঁদুরের হানা, কৃষকের স্বপ্নে দুশ্চিন্তার ছায়া
চুল কাটার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত, অতঃপর...
ময়মনসিংহের ভালুকায় বাকিতে চুল কেটে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে রবেন্দ্র ঋষি (৪৩) নামে এক সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাদ্দাম হোসেন নামে এক বখাটের বিরুদ্ধে। 
চুল কাটার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত, অতঃপর...
মায়ের ঠাঁই জীর্ণ ঘরে, শিক্ষক ছেলে ব্যস্ত বিলাসে!
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে জমি লিখে না দেওয়ায় ৮০ বছরের বৃদ্ধ মাকে বাড়িছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে নিজ সন্তান ও এক মাদরাসা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। 
মায়ের ঠাঁই জীর্ণ ঘরে, শিক্ষক ছেলে ব্যস্ত বিলাসে!
খুলনায় এবার বিএনপি নেতাকে গুলি
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় অহিদুল ইসলাম বাদল (৩৫) নামে যুবদলের এক সাবেক নেতাকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান স্থানীয় লোকজন।  মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার জলমা ইউনিয়নের চক্রাখালী বাজারসংলগ্ন বাদশার দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বাদল বটিয়াঘাটা উপজেলার তেঁতুলতলা গ্রামের আলতাফ হাওলাদারের ছেলে। তিনি জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। এ ছাড়া তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোটরসাইকেলে করে আসা অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা বাদশার দোকানের সামনে বাদলকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, খবর পেয়ে বটিয়াঘাটা থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে, বেলা ১১টার পর নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় এক সিগারেট কোম্পানির কর্মীকে গুলি করে তার ল্যাপটপসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গুলিবিদ্ধ সালমান নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার সবুজবাগের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। তিনি ক্যামেল সিগারেট কোম্পানিতে কর্মরত। আরটিভি/এসআর
খুলনায় এবার বিএনপি নেতাকে গুলি
আরও পড়ুন
‘বীরাঙ্গনা মা’ ও ‘যুদ্ধ শিশু’ মেয়ের বাড়িঘর দখল চেষ্টার অভিযোগ
পানিভর্তি বালতিতে ডুবে কোলের শিশুর মৃত্যু