আগামী ১১ জুন থেকে পর্দা উঠছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ‘বিশ্বকাপ ২০২৬’-এর। আর এই বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ফুটবল উন্মাদনা। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে পিছিয়ে নেই নওগাঁর পোরশা উপজেলার ফুটবলপ্রেমীরাও।
উপজেলার কাচারীপাড়া গ্রামের তরুণ ও যুব সমাজ মিলে তৈরি করেছে ৪০০ ফুট দীর্ঘ ও ও ৩ ফুট চওড়া ব্রাজিলের পতাকা। তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো বৈরিতা ভুলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই পতাকা তৈরি ও টাঙানোর কাজ করেছেন।
গ্রামের শিক্ষার্থী ও যুব সমাজের উদ্যোগে আমিনুল ইসলাম বাচ্চু মাস্টারের বাড়ি থেকে শুরু করে রাশেদা মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত টাঙানো হয়েছে দীর্ঘ এই পতাকাটি। প্রিয় তারকা নেইমার জুনিয়র দলে থাকায় সমর্থকদের উচ্ছ্বাস যেন আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সমর্থকরা জানিয়েছেন, এলাকার ছোট-বড় সবাই মিলে চাঁদা তুলে প্রায় সাড়ে আট হাজার টাকা ব্যয়ে এই পতাকাটি তারা বানিয়েছেন।
তারা আরও জানান, ফুটবলের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও কাচারীপাড়া গ্রামে দেখা গেছে সম্প্রীতির অনন্য নজির। এই বিশাল পতাকা তৈরির নেপথ্যে ব্রাজিলের পাশাপাশি অবদান রেখেছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরাও। গ্রামীণ সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে সবার সামনে রেখে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে জোড়া দেওয়া হয়েছে ব্রাজিলের পতাকাটি।
সমর্থকরা জানান- দল যার যার, আনন্দ সবার। তারা আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও ব্রাজিল ফুটবল দলের এই পতাকায় শরিক হয়েছেন। তারা চান সবাই মিলে হাঙ্গামামুক্ত একটা সুন্দর ফুটবল বিশ্বকাপ উপভোগ করতে।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসনও। তবে আনন্দের আতিশয্যে যেন কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের পতাকাকে সমুন্নত এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে যেকোনো দেশের পতাকা টাঙানো যেতে পারে, এতে কোনো বাধা নেই। ভ্রাতৃত্বের ও আনন্দের খাতিরে এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে খেলাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের হাঙ্গামা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই এক মাসব্যাপী টানটান উত্তেজনা আর আনন্দ। নওগাঁর পোরশার এই যুবকদের মতো সম্প্রীতির এমন চিত্র দেশের ফুটবল উন্মাদনাকে আরও সুন্দর ও অর্থবহ করে তুলবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের।
আরটিভি/আইএম



