ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় হোসেন শেখ (২৯) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে মাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যারা অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বানা ইউনিয়নের পন্ডিত বানা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ফুলজান বেগম ওই গ্রামের হাফিজার শেখের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে হোসেন শেখ পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পেশায় শ্রমিক হোসেন শেখ বিয়ে করতে চাইতেন। তবে, পরিবার থেকে তাকে বিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখানো হয়নি। এ নিয়ে তিনি তার মায়ের উপর ক্ষিপ্ত ছিল হোসেন।
আজ সকালে হোসেনের ঘরের সামনে তার মা ফুলজান বেগম একটি ফুলগাছের চারা রোপণ করতে যান। এ সময় মা ও ছেলের মধ্যে সাংসারিক নানা বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।
স্থানীয়রা বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পূর্বের পারিবারিক কলহ এবং সকালের গাছ লাগানো নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হোসেন চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় ঘরে থাকা কোদাল দিয়ে তিনি মা ফুলজান বেগমের মাথায় সজোরে কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ছেলেটা কিছুটা খ্যাপাটে প্রকৃতির। নানা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মায়ের সাথে ঝগড়া করতো। আবার নিজের ভুল বুঝতে পেরে মায়ের কাছে ক্ষমাও চাইতো। অনেকটা 'আধা পাগল' টাইপের। সে বিয়ে করতে আগ্রহী ছিল। তবে মা এ ব্যাপারে সাহায্য না করায় সে তার মায়ের উপর ক্ষিপ্ত ছিল। তার থেকে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে গেছেন। তিনি কোনো মুঠোফোন ব্যবহার না করায় তার অবস্থান শনাক্ত করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে, তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরটিভি/টিআর




