শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় একটি কবরস্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (৩১ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে নতুন জানখার কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ঘোষণা দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন জানখার কান্দি গ্রামের স্বপন খাঁর বাড়ির পেছনের একটি কবরস্থানে আগে থেকে লুকিয়ে রাখা ককটেল সদৃশ বিস্ফোরক উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলের প্রায় পাঁচ ফুট এলাকার মাটি সরে যায় এবং সেখানে স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের সময় আলতাফ খাঁ (২৪) নামের এক যুবক ও তার কয়েকজন সহযোগী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণে আলতাফ খাঁ আহত হয়েছেন। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক থাকায় কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অন্য কোনো হতাহতের খবর মেলেনি।
দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম। এ সময় তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিলাসপুরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। এই অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকার স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে তিনি পুরো বিলাসপুরকে দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং সেখানে একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
এদিকে, বিস্ফোরণের পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ওপর ভিত্তি করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিস্ফোরকের উৎস এবং পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরটিভি/এসএস




