ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শিগগিরই ছাত্রদলের কমিটি, আলোচনায় যারা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। বিএনপির হাইকমান্ড ইতোমধ্যে নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে যেকোনো সময় নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও ছাত্রদলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র।

সূত্রগুলো বলছে, নতুন কমিটি গঠনে সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, ত্যাগী ও রাজপথে পরীক্ষিত এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চলতি বছরের ৮ মার্চ বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘দ্রুতই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।’ এরপর থেকেই ছাত্রদলের কমিটিতে নিজের অবস্থান শক্ত করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন নেতারা।

২০২৪ সালের ১ মার্চ জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক আগে রাকিবুল ইসলামকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭ সদস্যের একটি আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছিল ছাত্রদল। পরবর্তীতে ২৬০ সদস্যের বড় কমিটিতে রূপ নেয় তা।

নিয়ম অনুযায়ী, দুই বছরের এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১ মার্চ। তাই নতুন নেতৃত্বে আসতে ছাত্রদলের সম্ভাব্য নেতারা এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও লবিং-তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতোমধ্যে সংগঠনের এই শীর্ষ দুই পদে ডজনখানেক নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। নেতৃত্বের দৌড়ে থাকা পদপ্রত্যাশীরা ক্যাম্পাসে শোডাউন এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা হতে পারে।

ছাত্রদলের শীর্ষ পদে আলোচনায় আছেন আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থনীতির ছাত্র আফসান এর আগে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০২২ সালের ২৪ মে ছাত্রলীগের হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন। মাথা ফেটে যাওয়ায় ১৭টি সেলাই লাগে এবং পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। ২০২৩ সালে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন প্রবেশমুখে বিএনপি ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে গাবতলী থেকে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন।

এছাড়াও ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী বিএনপি ঘোষিত হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও পশ্চিমে তিনি ছাত্রদলের মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও আবু আফসান শাহবাগ, বাংলামোটর, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে আন্দোলন সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তিনি রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

আলোচনায় আছেন আমান উল্লাহ আমান, বর্তমানে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। সংগীত বিভাগের ছাত্র আমান এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি দুই মাস কারাগারে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর সংগঠনকে সুশৃঙ্খল করা এবং ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন আমান।

তৃণমূল নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা ছাত্রদলের আরেক নেতার নাম সালেহ মো. আদনান। তিনি কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগের কমিটিরও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বরগুনা জেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর ২০১০ সাল থেকে ঢাবি ছাত্রদলের সঙ্গে ঢাকার রাজনীতির যাত্রা শুরু আদনানের। বরগুনা সরকারি কলেজে থাকাকালে ১/১১-এর অবৈধ সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হন। ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অপরাধে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় হল থেকে বের করে দেয় ছাত্রলীগ।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিরুদ্ধে, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে দলের সিদ্ধান্তে হরতাল, অবরোধসহ সব কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে দেশব্যাপী বিভাগীয় সমাবেশ, তারুণ্যের সমাবেশ, রোডমার্চ, ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচিসহ বিএনপির ডাকা সব হরতাল-অবরোধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ছাত্রদলের ৬ষ্ঠ কাউন্সিলকে ঘিরে সৃষ্ট সংকটে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য পল্টন পার্টি অফিসে দলের পক্ষে অবস্থান করেন। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা ও হামলার শিকার হন আদনান।

এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল, ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দুইবারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আটটি মামলার আসামি এবং তিনবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেছেন ইজাজুল কবির রুয়েল। তিনি রাজপথের সক্রিয়, ত্যাগী এবং নির্যাতিত ছাত্রনেতা হিসেবে বিভিন্ন মহলে পরিচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাইরের কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীও আলোচনায় রয়েছেন। তারা হলেন, ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হক মজুমদার শিমুল এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম. রাজীবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দু।

ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি। এর আগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-স্বাস্থ্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ফ্যাসিবাদের সময় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয় এবং একবার গ্রেপ্তার হন। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের আউয়াল বর্তমানে এফসিপিএস অধ্যয়নরত।

কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে এবং রিমান্ডে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া দুটি মামলায় সাজাভোগ করেন। কয়েকটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৫ সালে অবরোধের সময় একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পুলিশ তাকে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি ১০ মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এছাড়াও সহ-সভাপতি মো. মনজুরুল আলম রিয়াদ, খোরসেদ আলম সোহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল, মোমিনুল ইসলাম জিসান, মোস্তাফিজুর রহমান ও ফারুক হোসেন আলোচনায় আছেন।

তবে, সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন আলোচিত ছাত্রনেতা নতুন কমিটিতে বাদ পড়তে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে।

পদপ্রত্যাশীরা বলছেন, স্বৈরাচারী আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, ত্যাগী এবং গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বি ছাত্র শিবিরকে মোকাবিলার মতো প্রজ্ঞা আছে এমন ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ হবে। এতে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ছাত্রদল।

আরও পড়ুন

যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে তাদের ভাষ্য, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক অভিভাবক। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই সংগঠনের পক্ষ থেকে সাদরে গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক চলছে
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবন রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে এ বৈঠক শুরু হয়। 
১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক চলছে
ছাত্রদলেই আমার রাজনৈতিক শিক্ষা: আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর আমজনতার তারেক 
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অধ্যয়নকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে নিজের রাজনৈতিক শিক্ষার শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। 
ছাত্রদলেই আমার রাজনৈতিক শিক্ষা: আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর আমজনতার তারেক 
জাসাস নেতার মায়ের মৃত্যুতে রিজভীর শোক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংগীতশিল্পী জামাল উদ্দিন নাসিরের মা মরিয়ম বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
জাসাস নেতার মায়ের মৃত্যুতে রিজভীর শোক
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুদিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সংগঠনটি।
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি
‘আমজনতার তারেক রহমান কুবি ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন’
আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন বলে দাবি করেছেন কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ।
‘আমজনতার তারেক রহমান কুবি ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন’
আরও পড়ুন
ছাত্রদলেই আমার রাজনৈতিক শিক্ষা: আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর আমজনতার তারেক 
খুলনায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে গুলি
দক্ষিণখান থেকে উত্তরা পূর্ব থানা ছাত্রদল সভাপতি সাজ্জাদ গ্রেপ্তার
এবার জাতীয় নারীশক্তির নতুন কমিটি