সমুদ্রে পাওয়া গেল রহস্যময় যান্ত্রিক বস্তু, তদন্তের জন্য ঢাকায় প্রেরণ

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ , ১১:২১ পিএম


জেলেদের জালে রহস্যময় যান্ত্রিক বস্তু, তদন্তের জন্য ঢাকায় প্রেরণ
ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার পাথরঘাটায় জেলেদের জালে উদ্ধার হওয়া রহস্যময় যান্ত্রিক বস্তুটি পরীক্ষা ও তদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি সমুদ্র গবেষণায় ব্যবহৃত এমন একটি যন্ত্র হতে পারে যা পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও অন্যান্য পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ করে। তবে বস্তুটির প্রকৃত পরিচয়, উৎস ও উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত নয়।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা জেলার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার (১ জুন) পাথরঘাটার দক্ষিণ চরদোয়ানী নামক এলাকায় সাগর মোহনার বলেশ্বর নদী থেকে জেলেদের জালে উঠে আসা ওই যান্ত্রিক বস্তুটি পাথরঘাটা থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় সাগর মোহনায় পাথারঘাটার বলেশ্বর নদীতে একটি ট্রলারে মাছ শিকার করছিলেন জেলেরা। পরে নদীতে ফেলা জাল টেনে তুলতেই জালে পেঁচিয়ে লাল ও হলুদ রঙের একটি যান্ত্রিক বস্তু ওঠে আসে। এ সময় বস্তুটির মধ্যে তারের সংযোগসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ দেখে মিসাইল অথবা বোমা সদৃশ কোনো কিছু ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তারা। 

পরে সোমবার (১ জুন) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে বস্তুটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ছাড়াও বস্তুটিকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে, স্থানীয়রা মিসাইল অথবা বোমা সদৃশ বা যুদ্ধের কোনো যন্ত্রাংশ ভেবে পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যান্ত্রিক বস্তুটিকে জব্দ করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। পরে যান্ত্রিক বস্তুটি কী এবং কী কাজে ব্যবহার হয়েছে তা নিশ্চিত হতে গতকাল (১ জুন) রাতে ঢাকায় বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ। আর এ কারণেই ওই যান্ত্রিক বস্তুটিকে কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানা যায়। তবে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোস্ট গার্ডের কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা ওই যান্ত্রিক বস্তুটি সমুদ্র গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হয়। যার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে সমুদ্রের পরিবেশ, পানির গুণাগুণ, লবণাক্ততাসহ বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু বিষয়ক তথ্য সংগ্রহের কাজ করা হয়।

আরও পড়ুন

শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সমুদ্রপ্রাণী গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের সাগরের মধ্যে যে পানির গুণাগুণ, তাপমাত্রা লবণাক্ততা সম্পর্কে তথ্য নেওয়ার জন্য সাধারণত এই ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। যেহেতু জালে উদ্ধার হয়েছে, সেক্ষেত্রে এটি তার সিগনালে কোনো সমস্যা অথবা যে কোনো কারণে আটকে পড়েছে। তবে বিভিন্ন দেশের সাগরে পানির নিচে এ ধরনের যন্ত্রের ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু বড় বিষয় হচ্ছে এ ধরনের যন্ত্র যদি কোনো কারণে আটকে যায়, তাহলে তার ভিতরেই বলা থাকার কথা কিভাবে ওই যন্ত্রটিকে ফেরত দিতে হবে। কারণ এটার মধ্যে বিভিন্ন সময়ের তথ্য আছে, তাহলে যারা সগরের তথ্য নিচ্ছে তারা সেই তথ্য মিস করে ফেলবেন। এ ধরনের যন্ত্র সাধারণত আগে তেমন বেশি দেখা যায়নি। তবে, কেন তথ্য নিচ্ছে তা জানা দরকার।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড তারা হয়তো এ যন্ত্রটির বিষয়ে জানতে পারেন। যদি এমন হতো আমরা বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের যন্ত্র অনেকগুলো পেয়েছি, তাহলে ভিন্ন কোনো কাজে এটি ব্যবহার হতে পারতো। সাধারণত এটা পানির গুণাগুণ গভীরতাসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার হয়। কিন্তু বাইরে যদি সাগর থেকে অন্য কোনো তথ্য নেওয়া হয় তাহলে সেটি ভিন্ন বিষয়।

রহস্যময় এ যন্ত্রটি কোন দেশের হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আসলে কোন দেশের তা বলা মুশকিল। আমাদের দেশেরও হতে পারে। তবে, আমাদের দেশে কেউ এ ধরনের কাজ করছে কিনা তা জানা নেই। কিন্তু যেসব দেশ সমুদ্র নিয়ে বেশি গবেষণা করে সাধারণত এটি তাদের হওয়ার কথা। কারণ এ ধরনের যন্ত্রগুলো সমুদ্রের গবেষণা কাজেই বেশি ব্যবহার করা হয়। তবে, যে কোনো ডিভাইসকে বিভিন্ন কাজেই ব্যবহার করা যায়। সুনির্দিষ্টভাবে ওই যন্ত্রটি কী কারণে ব্যবহার করা হয়েছে তা বলা মুশকিল।

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা জানান, জেলেদের জালে যান্ত্রিক যে বস্তুটি পাওয়া গিয়েছে সেটি মূলত কী তা নিশ্চিত হতে এবং অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission