চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ৯ মামলার আসামি মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মাস্টারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার।
বুধবার (৩ জুন) সকালে বিশেষ অভিযানে তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা ও আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
গ্রেপ্তার মোস্তাফিজুর রহমান প্রকাশ মাস্টার একই এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া থানায় মাদকসহ বিভিন্ন আইনে সর্বমোট ৯টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি একসময় লোহাগড়া উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন। সেই থেকে স্থানীয়দের কাছে তিনি মাস্টার হিসেবে পরিচিত।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জহির আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ফকিরখীল গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতির টের পেয়ে তিনি একটি পুকুরে ঝাপ দেন। পরে পুলিশ তাকে পুকুর থেকে তুলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় নিয়ে আসেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের নিকট সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত (২৬ মে) গ্রেপ্তার মোস্তাফিজুর রহমান প্রকাশ মাস্টার ফকিরখীল গ্রামের একটি দোকানের সামনে স্থানীয় স্বপন দাশকে (৭০) কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তার বাম হাতের একটি আঙুলের নখ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর আগে তিনি এক মহিলাকে নির্যাতন করে চোখ তুলে ফেলেন। এ ছাড়াও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারকর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার সঙ্গে কারো মতবিরোধ হলেই তাকে বেধড়ক মারধর ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
আরও জানা যায়, ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে ফকিরখীল এলাকায় তিনি একটি ব্যানার টাঙিয়েছেন। সেখানে তিনি নিজেকে পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কোনো ব্যক্তি যদি ওই ব্যানার নিয়ে মন্তব্য করেন তাকেও মারতে তেড়ে যান বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, তার বিরুদ্ধে সর্বমোট ৯টি মামলা রয়েছে। তারমধ্যে ২টি মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
আরটিভি/এসএস



