সাধারণত কর্মীরা মালিকের অনুষ্ঠানে যান। কিন্তু এবার ঘটল উল্টো ঘটনা। প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর বিয়েতে যোগ দিতে সৌদি আরব থেকে তার কফিল (নিয়োগকর্তা) নিজেই দুই বন্ধুকে নিয়ে হেলিকপ্টারযোগে বাংলাদেশে এসে হাজির হয়েছেন। আর এই ব্যতিক্রমী আগমন দেখতে গ্রামজুড়ে নেমে আসে শত শত মানুষের ঢল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামে প্রবাসী যুবকের বিয়েকে ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে চাউরা কবি সানাউল হক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে।
হেলিকপ্টার নামার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করতে শুরু করেন। হেলিকপ্টারটি মাটিতে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা উৎসবে পরিণত হয়।
জানা গেছে, মধ্যপাড়া গ্রামের সুদন মিয়ার ছোট ছেলে মো. বাপ্পি গত চার বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। তার বড় ভাই মাসুদ রানা প্রায় পাঁচ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে তাদের সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান মালিক ফায়েজ আল মাকদুবি এবং তার দুই বন্ধু সালমান আল মুতাহারী ও আহাদ মোহাম্মদীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
মাসুদ রানা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কফিল ও তার বন্ধুরা বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করছিলেন। ছোট ভাইয়ের বিয়েতে অংশ নিতে তারা সৌদি আরব থেকে এসেছেন। তাদের এই আগমনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।
বর মো. বাপ্পিও সৌদি আরবে কর্মরত। তার বিয়েতে সৌদি অতিথিদের উপস্থিতি পরিবার ও এলাকাবাসীর জন্য বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
বাবা সুদন মিয়া বলেন, আমার ছেলের বিয়েতে তার মালিক সুদূর সৌদি আরব থেকে এসেছেন—এটি আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের বিষয়। এমন ঘটনা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি।
স্থানীয়রা জানান, সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মধ্যপাড়ায় এ ধরনের বিদেশি অতিথির আগমন এই প্রথম। হেলিকপ্টারযোগে তাদের আগমন পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে এলাকার জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে দেখছেন।
এলাকাবাসীর আশা, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে এলাকার তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, সৌদি অতিথিদের মাধ্যমে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তির জন্য বিদেশে কাজের নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
প্রবাসী যুবকের বিয়ে ও সৌদি অতিথিদের আগমনকে ঘিরে মধ্যপাড়া গ্রাম এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন হেলিকপ্টার দেখতে ও অতিথিদের একনজর দেখার জন্য। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন প্রবাসী বাপ্পির বিয়েকে দিয়েছে এক অনন্য মাত্রা, যা দীর্ঘদিন মনে রাখবেন এলাকাবাসী।
আরটিভি/এমএম




