ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পদ্মা ব্যারাজ ঘিরে কৃষকদের নতুন স্বপ্ন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
এআই ছবি: বাসস

রাজশাহী অঞ্চলে কৃষি পণ্যের উপর নতুন করে আশা জাগাচ্ছে পদ্মা ব্যারাজ। শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটের কারণে রাজশাহী অঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টরের চাষাবাদ ব্যাহত হয়। প্রতি বছর কৃষকেরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। তবে পদ্মা ব্যারাজের ফলে এই অঞ্চলে নতুন আশার আলো তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে রাজশাহী অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ উপকৃত হবেন।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা করতে রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমের বিপুল পরিমাণ পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, এই ব্যারাজ কৃষকদের ভাগ্য আমূল বদলে দেবে।

কর্মকর্তারা জানান, এই সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা পদ্মার শাখা নদীগুলোর নব্যতা ফিরিয়ে আনবে। লবণাক্ততা রোধ করে সুন্দরবন রক্ষা করা যাবে। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানি সরবরাহও নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, এই প্রকল্পটি কেবল আঞ্চলিকভাবেই নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হতে যাচ্ছে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আমরা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। সেই ভূগর্ভস্থ পানি তোলার পরিবর্তে আমরা এখন সেচের জন্য ভূ-উপরিস্থ (নদীর) পানি ব্যবহার করতে পারব।

তিনি আরও বলেন, রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে; তাদের কুলিং (শীতলীকরণ) কাজের জন্যও আমরা এ উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পানি পাব। আমাদের অঞ্চলের কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি, যার জন্য আমরা আন্দোলন করেছি, তা অবশ্যই সফল হবে।

নির্বাচনের আগে রাজশাহীতে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেছিলেন, রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি ও পানি সমস্যার সমাধানে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘ধানের শীষ’ এর সরকার গঠিত হলে ইনশাআল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শুরু করব। আমরা যদি পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করতে পারি, তাহেল রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাই- এই পুরো এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।

আরও পড়ুন

রাজশাহীর কৃষকরা জানান, পানির অভাবে ধান চাষ করা যাচ্ছে না। এ কারণে তাদের বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। পানি পাওয়া গেলে তাদের জন্য খুব ভালো হবে।

গোদাগাড়ী উপজেলার বরগাছী গ্রামের কৃষক আবু তাহের বলেন, পদ্মায় পানি স্বাভাবিক থাকলে গভীর নলকূপের পানির কোনো সমস্যা হবে না। তখন চাষাবাদেও সমস্যা থাকবে না। বিশেষ করে আমরা যারা চরে চাষাবাদ করি, তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হব।

বাঘা উপজেলার কিশোরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল বশির বলেন, শীতকাল থেকেই পদ্মার পানি কমতে শুরু করে। ওই সময় আমরা চাষাবাদ নিয়ে সমস্যায় পড়ি। চৈত্র মাসে পানির জন্য আমাদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। পানি ধরে রাখা গেলে অনেক দিক থেকে সুবিধা হবে। এছাড়া মানুষের চরে যাতায়াতও অনেক সহজ হয়ে যাবে।

নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পানি ধরে রাখা গেলে রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত নদীর পানির স্তর তুলনামূলকভাবে উঁচুতে রাখা সম্ভব হবে। ব্যারাজে জমা হওয়া পানি বিভিন্ন নদীপথে প্রবাহিত হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীর পানি প্রবাহ সচল রাখা যাবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের পানির সংকট কমে আসবে।

পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ বিলিয়ন লিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পুনরুজ্জীবিত হবে সেচ প্রকল্পগুলোও। পদ্মা ব্যারাজ এবং গঙ্গা অফ-টেক স্ট্রাকচারে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও থাকবে। সেখান থেকে বার্ষিক প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা যাবে, যা হিসনা-মাথভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাসিয়া, ইছামতি এবং বড়াল নদী ব্যবস্থার প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে।

এ ছাড়া গড়াই ও বড়াল নদীকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার নদী খনন (ড্রেজিং) করা হবে। শুষ্ক মৌসুমে এই ব্যারাজের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে ন্যূনতম ৫৭০ ঘনমিটার পানি ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
বগুড়ার শাজাহানপুরে মাইক্রোবাস ও ভুট্টাবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন।
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
পকেটে টাকা নেই, অথচ পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। যশোর রেলস্টেশনে এক পথচারীর খাবারের প্যাকেট দেখে ক্ষুধার তাড়নায় সেটি কেড়ে নেয় কিশোর নূর মোহাম্মদ। প্যাকেট খুলে ভাতের বদলে মিষ্টি পেয়ে কয়েকটি খেয়েও ফেলে সে। এরপর সেই কয়েকটি মিষ্টিই তাকে নিয়ে যায় মারধর, পুলিশ, আদালত হয়ে এক রাতের হাজতবাসের পথে।
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
রাজমিস্ত্রির সহকারী থেকে রিকশাচালক। এরপর হঠাৎ রিকশা ছেড়ে হ্যাকিংয়ে জড়িয়ে পড়া। মাত্র পাঁচ বছরে বদলে যায় নাটোরের লালপুরের ওহিদুল মোল্লার জীবনযাত্রা।
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
ফরিদপুরে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ, শিশুদের বেবি জেলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ (৪০) এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন। ওই এলাকায় তার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ কারখানা রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান, মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও সামগ্রী উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেখানে শিশুদের বেবি জেল, বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযানের সময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খাঁন বলেন, অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের আপস নেই। দলের কোনো সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কেন্দ্রকে জানানো হবে। আরটিভি/এসকে
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সহায়তার অর্থ বিতরণ করা হবে। 
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা
আরও পড়ুন
শেষ ছয় জজ নিয়োগ পরীক্ষার পাঁচটিতেই প্রথম রাবির শিক্ষার্থীরা
১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় স্বামী, এবার জজ হলেন স্ত্রী
১৮তম জজ নিয়োগ পরীক্ষায় দেশসেরা রাবি শিক্ষার্থী সিয়াম 
সার সংকট মোকাবিলায় পবা উপজেলা প্রশাসনের অভিনব উদ্যোগ