খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও জেলা জামায়াতের আমিরের উপস্থিতিতে ভুয়া ভুয়া স্লোগান এবং হট্টগোলে খুলনার পাইকগাছার রাড়ুলী ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর কর্মীসভা ভন্ডুল হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে আর কে বি কে কলেজিয়েটের দোতলায় উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ মাওলানা তৌহিদুজ্জামান নুরের সভাপতিত্বে আয়োজিত ইউনিয়ন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীসভায় এ ঘটনা ঘটে।
কর্মী সভায় জেলা জামায়াতের ইউনিট সদস্য সহকারী অধ্যাপক মমিন উদ্দীন সানার পক্ষে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কাজ করার কথা বলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামী আমির মাওলানা ইমরান হোসেন। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে একটি গ্রুপ হট্টগোল শুরু করে ও ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেন। একইসঙ্গে মমিন সানা সম্পর্কে আপত্তিকর নানা কথা বলতে থাকে। এ সময় স্থানীয় এমপি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আছর নামাজের সময় চলে যাচ্ছে বলে চলে যান। তার সঙ্গে দায়িত্বশীল নেতারাও সভাস্থল ত্যাগ করেন।
এদিকে এ সময় তারা বলেন যে, নামাজ শেষে আবার কর্মী সভায় আসবেন। কিন্তু নামাজ শেষে তারা আর ফিরে না এসে চলে যান বলে দলের নেতা-কর্মীরা স্কুল মাঠে বলাবলি করছিলেন।
তবে এ বিষয়ে জামায়াতের স্থানীয় আমিরসহ দায়িত্বশীল কেউই মন্তব্য করতে রাজি হননি। শুধু বলছিলেন, এখানে তেমন কিছু ঘটেনি।
এ বিষয়ে জামায়তের খুলনা জেলা আমির এমরান হুসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওখানে তো তেমন কিছু হয়নি। আওয়ামী লীগের কিছু লোক এসে হট্টগোল করছে।
জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সভায় আওয়ামী লীগের লোকেরা কীভাবে আসলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খোলা মেলা সভা ছিল, স্থানীয়দের সাথে আসছে। নামাজ পড়ে পুনরায় সেখানে যাওয়ার কথা হয়নি। আমরা অনুষ্ঠান শেষ করেই তো চলে আসছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের এক নেতা জানান, বিতর্কিত মোমিন সানাকে রাড়ুলি ইউনিয়নে ইউপি প্রার্থী মনোনীত করেছে, একই সাথে শেখ মহিবুল্লা তিনি জামায়াতের রুকন ছিলেন। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সম্পর্কে আপত্তিকর কথা বলায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার পক্ষের লোকজন হট্টগোল পাকিয়ে কর্মীসভা ভন্ডুল করেছেন। কর্মীদের জন্য নিয়ে আসা সিংগাড়াসহ খাদ্য-খাবারগুলো শেষে এলোমেলোভাবে বিতরণ করতে দেখা যায়।
স্থানীয় এমপি মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মুঠোফোনে কয়েকবার কল করেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরটিভি/এমএইচজে




