পরিবারের সুখের আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার মফিজ মিয়া (২৩)। পরে সেখানে নিখোঁজ হন তিনি। দীর্ঘ ১৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর রোববার (১৪ জুন) ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার খবর পায় পরিবার। এই খবরে মফিজের পরিবারে চলছে আহাজারি।
মফিজ মিয়া মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চরগুজামানিকা চাইলেনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার বানু মিয়ার ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ মে চাঁদপুর জেলার এক দালালের মাধ্যমে জীবিকার সন্ধানে ১২ লাখ টাকায় রাশিয়ায় যান মফিজ। সেখানে রাজমিস্ত্রীর কাজ করার কথা থাকলেও রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে সরাসরি ইউক্রেন সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ওই দালাল চক্র তাকে অর্থের বিনিময়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেয়। সর্বশেষ গত ২৯ মে মফিজের সঙ্গে কথা হয় পরিবারের । এরপর থেকে তার ব্যবহৃত ইমো, হোয়াটসঅ্যাপস, মেসেঞ্জার বন্ধ দেখায় এবং আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
রাশিয়ায় যাওয়ার পর মফিজ বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছিল তাকে যে কাজের কথা বলে নেওয়া হয়েছিল সেই কাজ না দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। সে সবার কাছে দোয়া চেয়েছিল।
পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি নিহত মফিজের মরদেহ দেশে আনা হোক এবং দালাল চক্রের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা হোক।
নিহতের ভাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই এক মাস ১২ দিন আগে রাশিয়ায় গিয়েছিল। সে ড্রোন হামলায় মারা গেছে। আমরা সরকারের মাধ্যমে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।
নিহত যুবকের মা মাহফুজা বেগম সরকারের সহযোগীতা কামনা করে বলেন, কাজের কথা বলে আমার ছেলেকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়। কিন্তু কাজ না নিয়ে আমার ছেলেকে যুদ্ধের মাঠে দেওয়া হয়। এখন আমার ছেলের মুখটা দেখতে হলেও লাশটা দেশে এনে দেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন চৌধুরী জানান, রাশিয়ায় নিহত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কিছু উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়নি। পরিবার আবেদন করলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে এবং পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।
আরটিভি/এমএম




