ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

তিন তরুণকে বেধড়ক পিটুনি, মামলা করায় চোখ তুলে নেওয়ার হুমকি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ এএম
নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় তিন তরুণকে গাছে বেঁধে বেধড়ক পিটুনির ঘটনায় করা মামলার বাদীকে হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং চোখ তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামিদের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, গত ৩ জুন ব্যাটারি চুরির অভিযোগ এনে সদর উপজেলার বোতলবুনিয়া গ্রামের বায়জীদ মোল্লা, মিরাজ মৃধা ও আসলামকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাগানের গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনে অংশ নেন একই এলাকার নূর মোহাম্মদ মোল্লা, সুমন মোল্লা, মনির গাইন, ইমরান ও মুসা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি গোপন রাখতে তাদের হুমকি দেওয়া হয়।

মামলার বাদী আব্দুর রব মোল্লা বলেন, তার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মনির গাইন (৩৫), সুমন মোল্লা (৩৪) ও মুসা (২৮)। আসামিরা তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের মুঠোফোনে কল করে মামলা তুলে নিতে বলছেন। মামলা তুলে না নিলে তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং চোখ তুলে নেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আসামিরা তাদের হাতে থাকা লাঠি বা শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে বায়জীদ নামে এক তরুণকে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। এ সময় বায়জীদ চিৎকার করে তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাগানের মধ্যে ছোটাছুটি করছেন। অভিযুক্তরা তার পেছনে ছুটে গিয়ে মারধর করেন এবং পরে ধরে এনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে আবার নির্যাতন চালান। একইভাবে মিরাজ ও আসলামকেও মারধর করা হয়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় ১০ জুন মারধরের শিকার বায়জীদের বাবা আব্দুর রব মোল্লা বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। ১২ জুন অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেয় পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বায়জীদ বলেন, মারধরে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ কিছুদিন আগে তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নূর মোহাম্মদ তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শাশুড়ির কাছেও টাকা দাবি করেন। সেখানেও ব্যর্থ হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বায়জীদ ও তার পরিবারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি ঈদুল আজহা উপলক্ষে তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। গত ৩ জুন আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে এনে একটি পরিত্যক্ত বাগানে নিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে নির্যাতন করে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বায়জীদের বাবা ও মামলার বাদী কৃষক আব্দুর রব মোল্লার অভিযোগ, এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে ইমরান ও নূর মোহাম্মদ পলাতক থাকলেও বাকি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার আত্মীয়স্বজনের মুঠোফোনে কল করে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। আসামিরা প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছেন। ফলে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আসামি মনির গাইন ও সুমন মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানা-পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কমল বড়াল বলেন, নির্যাতনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর আছে। বাদীকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ থাকলে বাদী থানায় এসে অভিযোগ করার পাশাপাশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে পারেন।

আরও পড়ুন

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আসামিদের হুমকির কারণে যদি বাদী নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, সে বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
শুরু হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা, হতাশা নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা
অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রে বদলে যাচ্ছে পায়রা বন্দর
এক বাড়িকে সুবিধা দিতে ৪১ লাখ টাকার সেতু!
পটুয়াখালীর চর বিজয় দ্বীপে দেখা মিললো দৃষ্টিনন্দন ভেরডিটার ফ্লাইক্যাচার পাখি