ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

৬ মাস পর খোলা হলো পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলল ৪৩ বস্তা টাকা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স ছয় মাস পর খোলা হয়েছে। সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর এসব দানবাক্স খোলা হয়। তবে এবার ছয় মাস পর খোলা হলো। যতবারই খোলা হয় ততবারই আগের রেকর্ড ভাঙে।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসন ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এখন পর্যন্ত ১৩টি দানবাক্সে মোট ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে গণনা। দানবাক্স খোলা ও গণনা কার্যক্রম সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

সবশেষ গত ২৭ ডিসেম্বর খোলা হয়েছিল দানবাক্সগুলো। সে সময় ১৩টি সিন্দুকে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। গণনা শেষে মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এ ছাড়া, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকারসহ নানা পণ্যসামগ্রী পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, সব ধর্মের মানুষের কাছে পাগলা মসজিদ এক সার্বজনীন পবিত্র ধর্মীয় কেন্দ্র। মানুষজন বিশ্বাস করেন, যদি কেউ একনিষ্ঠ নিয়তে পাগলা মসজিদে কোনো কিছু দান করে, তাহলে তার মনের বাসনা পূরণ হয়। এমন বিশ্বাসের কারণে মানুষজন পাগলা মসজিদে প্রচুর দান-খয়রত করেন। অনেক মানুষ মনের বাসনা, রোগমুক্তি, উচ্চ শিক্ষা, সন্তান লাভসহ বিভিন্ন নিয়তে এই মসজিদে মানত করে থাকেন। শুধু টাকা-পয়সা নয়, অনেকেই স্বর্ণালংকার, হাঁস-মুরগি, গবাদি প্রাণী ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী দান করে থাকেন।

প্রচলিত আছে, পাগলবেশী এক আধ্যাত্নিক সাধক নরসুন্দা নদীর বুকে মাদুরে ভেসে মসজিদের স্থানে এসে অবস্থান নেন। এরপর ধীরে ধীরে তাকে ঘিরে ভক্ত সমাগম হতে থাকে। আধ্যাত্নিক সাধকের মৃত্যুর পর তার কবরের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। যা বর্তমানে পাগলা মসজিদ নামে সুপরিচিত।

১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফ-স্টেট মসজিদটি পরিচালনা করছে। মসজিদটি আড়াইশো বছরের পুরনো। কিশোরগঞ্জ সদরের নরসুন্দা নদীর তীরে তিন একর ৮৮ শতাংশ জায়গার ওপর ঐতিহাসিক এ মসজিদটি অবস্থিত।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাসচাপায় একসঙ্গে প্রাণ গেল শাশুড়ি-পুত্রবধূর
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বাসচাপায় শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ৬টার দিকে ঢাকা-বকশীগঞ্জ মহাসড়কের নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসটি জব্দ ও এর হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া গ্রামের উফেজা বেগম (৬৫) ও তার পুত্রবধূ ফরিদা বেগম (৪০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শান্তি পরিবহন নামের একটি বাস বকশীগঞ্জ উপজেলার ঠাকুরপাড়া হয়ে রৌমারীর দিকে যাচ্ছিল। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাশুড়ি উফেজা বেগম ও তার পুত্রবধূ ফরিদা বেগম। সকাল ৬টার দিকে বাসটি ঠাকুরপাড়া এলাকা অতিক্রম করার সময় তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের হেলপার মহিউদ্দিনকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি জব্দ করে। শাশুড়ি ও পুত্রবধূর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মকবুল হোসেন জানান, বাসটি জব্দ ও এর হেলপার মহিউদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আরটিভি/টিআর
সাতসকালে বাসচাপায় প্রাণ গেল শাশুড়ি-পুত্রবধূর
শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল ও সনদ অর্জনের পেছনে ছুটলেই চলবে না; বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জের মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, বরং একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও মূল্যবোধ ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাই যথেষ্ট নয়; তোমাদের সৎ, দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষা যেন কেবল সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তা যেন মানুষের চিন্তাশক্তি, বিবেক ও দায়িত্ববোধকে সমৃদ্ধ করে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিশ্বে নিজেদের যোগ্য মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। তোমাদের বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সততা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. খাইরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহররম আলী। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সমন্বয়কারী রহমত আরা লস্করার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদ হাসান, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি শাহজাহান বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক রিপন আনসারী এবং জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মিনহাজ মিয়া। প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনে আয়োজিত এ নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নাচ, গান, ফ্যাশন শো ও আলোচনা পর্বের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের
বরিশালের বাকেরগঞ্জে এক বিবাহিত নারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় সাত মাস ধরে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে একটি মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ তুহিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ওই ইমাম ও নারীকে আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। তবে কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ তুহিন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে তুহিনের সঙ্গে পাশের গ্রামের এক নারীর বিয়ে হয়। পরে পটুয়াখালীর মজিদপুর গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করার সময় ওই মসজিদের পাশের বাড়ির এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর বড় ভাইয়ের অভিযোগ, এর আগে মজিদপুর এলাকার একটি মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করার সময় তুহিন ওই মসজিদের পাশের বাড়ির বিবাহিত নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওই নারী তার স্বামীর সংসার ছেড়ে তুহিনের সঙ্গে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ওই নারীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে তুহিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পরিবারের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাত মাস আগে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে আসেন এবং এক মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর তারা স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে তুহিনের প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ওই ভাড়া বাসায় গিয়ে দুজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, স্থানীয়রা মসজিদের ইমাম ও এক নারীকে আটক করার পর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। পরে কলাপাড়া থেকে আসা ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। উভয় পক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ তুহিন দাবি করেন, নারীর সঙ্গে তার মৌখিকভাবে বিয়ে হয়েছে। তবে এ সময় তিনি বিয়ের কোনো কাবিননামা বা নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আরটিভি/টিআর
অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের
ধস্তাধস্তির পর ধানখেতেই তাজমিনকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৩) গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সিএনজিচালক সুমন। ধানখেতে নিয়ে যাওয়ার পর ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাজমিনের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করেও ঘটনার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল ধানখেতে ধস্তাধস্তির আলামত মিলেছে। পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সুমন একাই তাজমিনকে ধানখেতে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। হত্যার কারণও অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) গভীর রাতে বাস থেকে নেমে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে কিশোরীকে একা পেয়ে সুমন শহরের দিকে না গিয়ে উল্টো পথে অটোরিকশা চালাতে থাকেন। বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে তিনি লালমাই উপজেলার জগতপুরের একটি ধানখেতের দিকে যান। বিষয়টি বুঝতে পেরে চলন্ত অটোরিকশা থেকেই রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লাইভ লোকেশন ও বার্তা পাঠিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানায় তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় তার বাবা বার্তাটি দেখতে পাননি। পরে জগতপুরের ধানখেতে পৌঁছালে আত্মরক্ষার জন্য পালানোর চেষ্টা করে তাজমিন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে অটোরিকশাটিও পড়ে ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে সুমনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে উপস্থিত হয়নি। তার বাবা আব্দুল আলিম একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে তারা কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামে। এর আগে গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে বুধবার রাতে বাসায় ফেরার পথে সিএনজিচালকের অটোরিকশায় ওঠার পর এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয় সে। আরটিভি/এসকে
ধস্তাধস্তির পর ধানখেতেই তাজমিনকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন
মা-বাবার শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে বরযাত্রা
বিয়ের বরযাত্রা মানেই সাধারণত গাড়ি, মাইক্রোবাস কিংবা ঘোড়ার গাড়ি। তবে ব্যতিক্রমী আয়োজন করে আলোচনায় এসেছেন গাইবান্ধার সাকিব মিয়া। পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েতে মা-বাবার দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে যান তিনি। ব্যতিক্রমী এই বরযাত্রা দেখতে কনের বাড়িতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী উৎসুক মানুষ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চকনদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর সাকিব মিয়া চকনদী গ্রামের সাইদ আলীর ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। তার কনে সুরাইয়া আক্তার একই উপজেলার হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার বড় মেয়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন সাকিব। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন একমাত্র দুলাভাই। পরিবারের অন্য সদস্য ও বরযাত্রীরা মাইক্রোবাসে করে কনের বাড়িতে যান। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে কনের বাড়িতে পৌঁছান সাকিব। হাতির পিঠে বরের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখতে সেখানে জড়ো হন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্কদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক কৌতূহল। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় সাকিবের। যৌতুকবিহীন এ বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় আড়াই লাখ টাকা। বিয়ের আসরেই নববধূকে দেনমোহরের অর্থ বুঝিয়ে দেন বর। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। বরের বোন জানান, পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েতে মা-বাবার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল ছেলেকে হাতির পিঠে চড়িয়ে বিয়ে করানোর। সেই শখ পূরণ করতেই নেওয়া হয় ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ। সাকিব মিয়া বলেন, ‘বিয়ে জীবনের একটি বিশেষ দিন, যা বারবার আসে না। মা-বাবার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল আমাকে হাতির পিঠে চড়িয়ে বিয়ে করাবেন। তাদের ইচ্ছা পূরণ এবং দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০ হাজার টাকা দিয়ে হাতিটি ভাড়া করে আনা হয়। মা-বাবার শখ পূরণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাদের এলাকায় হাতির পিঠে চড়ে বরের কনের বাড়িতে যাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। এ কারণে ব্যতিক্রমী বরযাত্রাটি দেখতে আশপাশের অনেক মানুষ ছুটে আসেন। ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন জানান, মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই হাতির পিঠে চড়ে বিয়ের এ আয়োজন করা হয়েছে। বর ও হাতিকে দেখতে বিয়েবাড়িতে শত শত মানুষের ভিড় জমে। আরটিভি/এসকে
মা-বাবার শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে বরযাত্রা
আরও পড়ুন
ইটভাটার দেওয়াল ধসে প্রাণ গেল ২ শ্রমিকের
ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর দরজার আড়ালে ওত পেতে ছিলেন জামাল, অতঃপর...
ভবনের পাইলিং কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
বাড়ির পাশের গাছ থেকে প্রবাসী যুবকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার