ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার যানজট। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাসসহ ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) মাধবপুরে বাখরনগর এলাকা থেকে শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর গেইট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে প্রায় ৫ কিলোমিটার করে মোট ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অলিপুরে অবস্থিত শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকবাহী যানবাহনের প্রবেশ এবং চলমান ছয় লেন সড়ক নির্মাণকাজের কারণে মহাসড়কে ধীরগতির সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়ে।

যানজটে আটকে থাকা যাত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, সকাল থেকে রাস্তায় আছি। ছোট শিশু নিয়ে বাসে বসে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছি না।’

বিদেশগামী যাত্রী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার আজ রাতে ফ্লাইট। সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারব কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। মহাসড়কের এই যানজট আমাদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকাগামী বাসচালক আব্দুল মালেক বলেন, সকাল থেকে কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। সড়ক নির্মাণকাজ ও শিল্পাঞ্চলের গাড়ির চাপ একসঙ্গে পড়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, অলিপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক পরিবহনকারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং চলমান ছয় লেন সড়ক নির্মাণকাজের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে। যানবাহন স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

আরও পড়ুন

এদিকে দীর্ঘ যানজটের কারণে মহাসড়কে আটকে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ, নারী, শিশু ও জরুরি কাজে যাতায়াতকারী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সিলেট সীমান্তে সাড়ে ভারতীয় পেঁয়াজসহ সাড়ে ৬০ লাখ টাকার মালামাল জব্দ
সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে ৩ হাজার ৫০০ কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ, ১২০ বোতল মদসহ বিভিন্ন চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
সিলেট সীমান্তে সাড়ে ভারতীয় পেঁয়াজসহ সাড়ে ৬০ লাখ টাকার মালামাল জব্দ
মা-ছেলেকে অমানবিক নির্যাতনের পর ৩ দিন বন্দি বানিয়ে রাখেন চুন্নু
পাঁচ হাজার টাকা চুরির অপবাদে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের পর গোয়ালঘরে পায়ে শিকল বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তার বিধবা মাও।
মা-ছেলেকে অমানবিক নির্যাতনের পর ৩ দিন বন্দি বানিয়ে রাখেন চুন্নু
সীমান্তে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ 
ফেনীর ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও একটি কাভার্ডভ্যান জব্দ করেছে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)।
সীমান্তে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ 
গঙ্গাচড়ায় পরীক্ষায় ওএমআর বদলের অভিযোগে ৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
দাখিল পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা এবং টাকা না পেয়ে এক পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট বদলে দেওয়ার অভিযোগে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গঙ্গাচড়ায় পরীক্ষায় ওএমআর বদলের অভিযোগে ৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
মনপুরার জেলেদের ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’, নিষেধাজ্ঞার আগে গভীর নিম্নচাপ
মেঘনার বুকে মাছ ধরেই যাদের সংসার চলে, সেই জেলেদের জীবনে যেন একের পর এক সংকট। সামনে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে কয়েকটি দিন মেঘনায় মাছ শিকার করে পরিবারের ভরণপোষণের অর্থ জোগাড়ের আশায় ছিলেন মনপুরার জেলেরা। কিন্তু সেই আশাতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ। আগামী ৮ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ সময়ে নদীতে মাছ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মনপুরার বহু জেলে। তাদের আশা ছিল, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মাছ ধরতে না পারায় যে আয়-রোজগারের ঘাটতি তৈরি হবে, তার কিছুটা আগে মাছ ধরে পুষিয়ে নেবেন। তবে এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে নদী ও সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জেলেদের মধ্যে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় গভীর নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এদিকে নিষেধাজ্ঞার আগে কয়েকদিন নদীতে মাছ ধরে সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন মনপুরার জেলেরা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরতে না পারলে তাদের সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলেদের ভাষ্য, বছরের বড় একটি সময় নদী ও সাগরে মাছ ধরেই তাদের সংসার চলে। মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা, বৈরী আবহাওয়া এবং নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ার কারণে অনেক সময় ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। নিষেধাজ্ঞার আগে মাছ ধরার সুযোগটুকুও যদি আবহাওয়ার কারণে নষ্ট হয়, তাহলে পরিবারের খাবার, নৌকার জ্বালানি, জাল মেরামত ও অন্যান্য খরচ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়বে। স্থানীয় জেলেরা বলছেন, একদিকে সামনে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে তার আগেই গভীর নিম্নচাপ সব মিলিয়ে তাদের জীবনে যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জেলেদের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা মাছ ধরতে না পারলে নিষেধাজ্ঞার সময় ও পরবর্তী সময়ে তাদের পরিবারগুলোর জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা হোক। মেঘনার তীরে এখন তাই একটাই প্রশ্ন নিষেধাজ্ঞার আগে যে ক’দিন মাছ ধরে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন জেলেরা, গভীর নিম্নচাপের বৈরী আবহাওয়া সেই স্বপ্নকে কতটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়। আরটিভি/এসআর  
মনপুরার জেলেদের ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’, নিষেধাজ্ঞার আগে গভীর নিম্নচাপ
আরও পড়ুন
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪