ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‘জানি না, শেষ বয়সে নিজের ঘরে মরতে পারব কি না’

সদরপুর (ফরিদপুর), আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
পদ্মার পারে নিজের অষ্টমতম ঘরে দাড়িয়ে আছেন হাসমত বেপারী : ছবি আরটিভি

নব্বই পেরোনো হাসমত বেপারীর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল নিজের ভিটেমাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা। কিন্তু সেই স্বপ্ন বারবার ভেঙে দিয়েছে সর্বগ্রাসী পদ্মা নদী। গত কয়েক দশকে সাতবার তার বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এবারও পদ্মার ভয়াল ভাঙনের কবলে পড়ে স্মৃতিবিজড়িত বাড়িঘর ছেড়ে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে ভাড়া বাসায়।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের বেপারীডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা হাসমত বেপারী বর্তমানে স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন। তার একমাত্র ছেলে সৌদি আরবে কর্মরত। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মাথা গোঁজার স্থায়ী কোনো ঠাই নেই এই বৃদ্ধের। চোখের সামনে বারবার ভেঙে যেতে দেখেছেন নিজের হাতে গড়া বাড়ি, আবাদি জমি আর বহু বছরের স্মৃতি।

কাঁপা কণ্ঠে হাসমত বেপারী বলেন, জীবনে আটবার ঘর তুলেছি। সবই গিলে খেয়েছে পদ্মা। এই বয়সে এসে আর নতুন করে কিছু করার শক্তি নেই। বাধ্য হয়ে ভাড়া বাসায় উঠেছি। জানি না, শেষ বয়সে নিজের একটা ঘরে মরতে পারব কি না।

আরও পড়ুন

হাসমত বেপারীর মতো এমন বেদনাময় গল্প সদরপুর উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী এলাকার অসংখ্য মানুষের। প্রতি বছরই নদীভাঙনের কারণে ভিটেমাটি হারাচ্ছে শত শত পরিবার। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লেই বাড়ে আতঙ্ক, কাটে নির্ঘুম রাত। নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।

বর্তমানে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী ও বেপারীডাঙ্গী এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা ও আকোট গ্রামে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রাম, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার এবং আকোট গুচ্ছগ্রামসহ অন্তত ১০টি গ্রাম।

frdpr2
নদী ভাঙনের কবলে পড়ছে নতুন নতুন এলাকা : ছবি আরটিভি

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে পদ্মার তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ কেউ ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আকোটেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, ভাঙনের বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

আরও পড়ুন

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বলেন, আমরা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু করেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পদ্মার ভয়াল থাবায় বছরের পর বছর ধরে সর্বস্ব হারানো মানুষের দীর্ঘশ্বাস যেন থামছেই না। হাসমত বেপারীর মতো অসংখ্য মানুষ আজও অপেক্ষায়—কবে মিলবে নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান, কবে ফিরবে নিজের ভিটেমাটিতে নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিশুকে নিয়ে ছাদে মোশাররফ, ইউপি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার’
সাতক্ষীরা সদরে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মোশাররফ হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
শিশুকে নিয়ে ছাদে মোশাররফ, ইউপি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার’
গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
গাজীপুরে টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ওষুধ কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
ভবন নির্মাণের সময় আইনবহির্ভূত কাজ করলে আইনের আওতায় আনা হবে: গৃহায়ণ মন্ত্রী
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভবন নির্মাণের সময় কেউ আইনবহির্ভূত কাজ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
ভবন নির্মাণের সময় আইনবহির্ভূত কাজ করলে আইনের আওতায় আনা হবে: গৃহায়ণ মন্ত্রী
বারবার বারণেও তালাক দেওয়া স্ত্রীর কাছে যাওয়া থামাননি দুলু মিয়া! পরে মিলল মরদেহ
টাঙ্গাইলের সখীপুরে তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির পাশের ধানক্ষেতের কাছে দুলু মিয়া (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চটানপাড়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত দুলু মিয়া ওই গ্রামের মৃত কাঞ্জু মিয়ার ছেলে। তিনি বড়চওনা রফিকরাজু স্কুলের দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুলু মিয়ার প্রথম স্ত্রী আসমা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার তালাক হলেও ওই বাড়িতে দুলু মিয়ার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। আমরা বারবার বলেও তাকে ফেরাতে পারিনি। ওরাই আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে। অন্যদিকে দুলু মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী জরিনা বেগম জানান, তালাকের পর দুলু মিয়ার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। নিহতের ছেলে আজহার মিয়া বলেন, তার বাবা গত রাতে দোকানে চা পান করে বাড়িতে ফেরেন। পরে আবার বাইরে বের হন। এরপর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার বাবার মরদেহ রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়রা জানান, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির পাশের ধানক্ষেতের কাছে দুলু মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আরটিভি/এমএইচজে
বারবার বারণেও তালাক দেওয়া স্ত্রীর কাছে যাওয়া থামাননি দুলু মিয়া! পরে মিলল মরদেহ
মুন্সীগঞ্জে একই দিনে দুই মায়ের ঘরে যমজ সন্তান, চার নবজাতকই সুস্থ
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় একই দিনে দুই প্রসূতির অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চার নবজাতকের জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে এক দম্পতির ঘরে এসেছে দুই কন্যাসন্তান, অন্য দম্পতির ঘরে দুই পুত্রসন্তান। দুই দম্পতিরই এটি প্রথম সন্তান।
মুন্সীগঞ্জে একই দিনে দুই মায়ের ঘরে যমজ সন্তান, চার নবজাতকই সুস্থ
আরও পড়ুন
মাদরাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্তের জেরে দুই ইউনিয়নের সংঘর্ষ
হারিয়ে যাওয়ার ৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে ভাইদের কাছে ফিরলেন পরী বেগম
জয়নালের নামে ধর্ষণচেষ্টার মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন গৃহবধূ
ট্রলির জন্য টাকা না দেওয়া ভোগান্তি, হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু