বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠ হয়ে যায় জলাশয়

স্টাফ রিপোর্টার (চট্টগ্রাম), আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ , ১২:৫৯ পিএম


বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠ হয়ে যায় জলাশয়
ছবি: আরটিভি

চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলি এলাকার জয় তারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর থাকে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠ পরিণত হচ্ছে ছোট্ট এক জলাশয়ে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকছে দীর্ঘ সময়, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের। 

বুধবার (২৪ জুন) রাতে অল্প বৃষ্টির পর বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে জমে থাকা পানির কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে জুতা হাতে নিয়ে কাদা ও পানি মাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি শুধু কষ্টকরই নয়, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করছে। 

স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে যায়, ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ হওয়া উচিত নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব। কিন্তু মাঠে পানি জমে থাকায় শিশুদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে। অনেক শিশু পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতেও থাকে।

আরও পড়ুন

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেও প্রভাব পড়ে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেন। এতে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে পাহাড়তলী থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রূপা অঞ্জলি কর বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে বিষয়টি জানাবো। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন একটি স্থায়ী সমাধান করা যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এটি মূলত সাময়িক সমস্যা। বৃষ্টি হলে মাঠে পানি জমে, অন্য সময় তেমন কোনো সমস্যা থাকে না।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের দাবি, সাময়িক বলে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই সমস্যাকে আর হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিশুদের নিরাপদ শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই বিদ্যালয়টিকে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।

শিক্ষাই একটি জাতির মেরুদণ্ড। আর সেই শিক্ষার প্রথম ধাপ প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু যদি বিদ্যালয়ে পৌঁছাতেই শিক্ষার্থীদের পানি ও কাদা মাড়িয়ে সংগ্রাম করতে হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission