গাজীপুরের শ্রীপুরে রাজাবাড়ী-দমদমা সড়ক নির্মাণের সাত মাসের মধ্যে ধসে পড়া ৮৩ মিটার অংশ পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি বলেন, মাটি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মাটির দুর্বলতা এবং বালু-মাটির সংমিশ্রণে ভ্যাকুয়াম থাকায় সড়কটি ধসে পড়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের আশ্বাস দেন তিনি।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া এলাকায় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ২ হাজার ৯০০ মিটার সড়কের মধ্যে মাত্র ৮৩ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাকি ২ হাজার ৮১৭ মিটার সড়ক ঠিক আছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মাটি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, নিচে বালু ও মাটির সংমিশ্রণে ভ্যাকুয়াম থাকায় ওই অংশ দেবে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ৮৩ মিটার অংশের জন্য নতুন করে নকশা করা হয়েছে। বড় ধরনের পাইলিং করে ওই অংশ মেরামত করা হলে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সড়কের ধসে পড়া অংশ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন। মাটির দুর্বলতা এবং বালু-মাটির সংমিশ্রণে ভ্যাকুয়াম থাকায় সড়কের অল্প অংশ ধসে পড়েছে। গত বোরো মৌসুমে স্থানীয় লোকজন সড়কের ওপর ধান শুকানোর সময় যানবাহনগুলো নদীর পাশ ঘেঁষে চলাচল করায় ওই অংশে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং পরে তা ধসে পড়ে। নির্মাণকাজ শেষ হলেও ঠিকাদারের জামানতের টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হয়েছে এবং সড়ক নির্মাণকাজে ঠিকাদারের ত্রুটি ছিল, যা নোটিশের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী ও টেকসইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরায় প্রতিমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঢাকা বিভাগের সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বাবুল আখতার, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া, শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোসলেম উদ্দিন মৃধা, শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজাবাড়ী থেকে দমদমা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। সূতি নদীর ডান তীর ঘেঁষে সড়কটি নির্মিত হওয়ায় ভাঙন ঠেকাতে নদীর পাড়ে ব্লক বসানোসহ পুরো সড়ক নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সালাম-দুর্গা এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, শুরু থেকেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) অভিযোগের যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। নির্মাণকাজের সময় মাটি যথাযথভাবে কম্প্যাকশন না করে এবং ব্লকের নিচে স্থায়ী ভিত্তি নির্মাণ ছাড়াই ব্লক বসানো হয়। টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে ব্লকগুলো দেবে গিয়ে সড়কের ওই অংশ ধসে পড়ে।




