ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় আবারও চলন্ত বাসে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাতে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাতে সাভার উপজেলার আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাসচালক মো. ইমরান (৩৫), হেলপার মুসফেকুর রহমান জনি (২০) ও তাদের সহযোগী সুমন প্রামাণিক (৩০)।
আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত দেড়টার দিকে ভুক্তভোগী নারী তার পরিচিত মো. রুবেলকে (২৭) সঙ্গে নিয়ে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আশুলিয়ার নবীনগরের উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২৫৭৪) ওঠেন।
নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর আগে বাসের চালক ইমরান তার সহকারী মুসফেকুরকে বাস চালানোর দায়িত্ব দেন। পরে ইমরান ওই নারীর সঙ্গে থাকা রুবেলকে মারধর করেন এবং হত্যার হুমকি দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দেন। এক পর্যায়ে ইমরানও বাস থেকে নেমে যান। এ সময় মুসফেকুর ও সুমন প্রামানিক বাসে ছিলেন।
পরে সুমনের সহায়তায় মুসফেকুর চলন্ত বাসে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় নারী চিৎকার শুরু করলে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া রুবেল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ বাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার রাস্তায় একটি বাস দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে ও সাভার পরিবহনের বাসটি থামায়। থামানোর পর বাসটি থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মুসফেকুর ও সুমনকে ধরা হয়।
এ ঘটনায় শনিবার রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ওই নারী। পরে রোববার বিকেলে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে বাসচালক ইমরানকে গ্রেপ্তার করে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে এবং ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।
আরটিভি/আইএম




