টানা বৃষ্টির কারণে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা ও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লীবিদ্যুৎ ও হরিনহাটি এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সড়কে জমে থাকা পানিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার।
সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার হরিনহাটি, জোড়াপাম্প, বিশ্বাসপাড়া, ভাঙা মসজিদ, খাজার ডেক, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, ডাইনকিনী, হরতকীতলা, আমতলা, মাইওয়ান, দিঘীরপাড় বটতলা, পূর্ব চান্দরাসহ ২০টির বেশি এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানিতে সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে।
জানা গেছে, কালিয়াকৈর পৌরসভাটি নামে মাত্র প্রথম শ্রেণি। ২০০১ সালে পৌরসভাটি গঠিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভা গঠনের পর অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের ওপর দোকানপাট, বাসাবাড়ি, শিল্প কারখানা গড়ে তোলাসহ নানা কারণে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। পৌরসভায় প্রায় দুই শতাধিক শিল্প কলকারখানা রয়েছে। অনেক শিল্প কারখানা পানিতে ডুবে গেছে ফলে ১০থেকে ১৫টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছেন কতৃপক্ষ। বন্ধ রয়েছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল ও জলাশয় ভরাট, পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়া এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য ভারি বৃষ্টিতেই এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বাসপাড়া, হরিনহাটি ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোর মুখ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ড্রেনের উপর দোকানপাট থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।অপর দিকে৫ নং ওয়ার্ডের মাইওয়ান মোড় থেকে ওয়ালটন ফ্যাক্টরি পর্যন্ত ড্রেনের উপর দোকানপাট গড়ে ওঠায় টানা বর্ষণের জলবদ্ধতা তীব্র আকারে ধারন করেছে।
হাজারো ছাত্রছাত্রী ও গার্মেন্টস শ্রমিকরা স্কুল-কারখানায় যেতে পারছে না। নিচু জমি ভরাট করে মিলকারখানা নির্মাণের ফলে ফসলের জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও খাবার পানির সংকটে হাজারো মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। কোনো অবস্থাতেই মানুষের দুর্ভোগ থামছে না।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে খালগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা অতিক্রম করেছে। ফলে পানি দ্রুত নামতে পারছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড্রেন পরিষ্কার, খাল থেকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে খাল পুনঃখনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি হচ্ছে এবং রাস্তাঘাট এখনও জলাবদ্ধতায় রয়েছে। কিছু পানি নামলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে কালিয়াকৈর পৌরসভার ২০টির বেশি এলাকা পানির নিচে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেন-খাল দখলের কারণে হাজারো মানুষ পানিবন্দি। ইউএনও খাল পুনঃখনন ও ড্রেন পরিষ্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, শিক্ষা কার্যক্রম ও শিল্পকারখানার শ্রমিকদের কর্মস্থলে যাতায়াতে। অনেক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। অনেক পরিবারে রান্না-বান্না বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটছে।
আরটিভি/এমএম




