প্রমত্তা-তেঁতুলিয়া নদীর ক্রমাগত ভাঙনে মানচিত্র থেকে বিলীনের পথে দশমিনার সদর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। জমিজমা ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। সহায়তা নয় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা যায়, পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর অরক্ষিত বেড়িবাঁধ ভেঙে হাজিরকান্দা, হাজিরহাট, ধনধনিয়া, গোলখালী,ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতি বছর অমাবস্যা ও পূর্ণিমাসহ বিভিন্ন সাইক্লোনে ভাঙা বেড়িবাঁধ থেকে পানি ঢুকে লোকালয়ে প্রবেশ করে; এতে পানিবন্দি আবস্থায় থাকে কয়েকশত পরিবার।
এ দিকে নদী ভাঙনে হাজিরহাট লঞ্চ ঘাটের একমাত্র মসজিদটি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে; এর সঙ্গে বিলীন হয়ে যাচ্ছে একমাত্র পাকা সড়কটিও।
ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষেত, গাছপালা সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে এসব গ্রামের শত শত পরিবার৷ সেইসঙ্গে নদীগর্ভে চলে গেছে এখানকার হাজারো মানুষের সাজানো স্বপ্ন। ইতোমধ্যে চিরতরে মুছে গেছে অনেকের ঘর-বাড়ি। হারিয়ে গেছে নানা ধরনের স্মৃতি৷; যার অধিকাংশই আজ পর্যন্ত মেরামত হয়নি।
নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ ঘর-বাড়ি স্থানান্তর করে বেঁচে থাকার চেষ্টায় অন্যত্র আশ্রয় নিতে সরিয়ে নিয়েছে নিজেদের পূর্ব পুরুষের ভিটে।
আগ্রাসী নদী ভাঙনের দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। পূর্ব পুরুষের ভিটে মাটি কবর হারানো মানুষগুলো অসহায় হয়ে আশ্রয়ের জন্য ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন। তারা এখন ত্রাণ চান না, চান স্থায়ী বেড়িবাঁধ। তাই আশ্বাস নয় স্থায়ী সমাধানের দাবি স্থানীয় ভুক্তভোগীদের।
নদী পাড়ের রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমি যখন এই এলাকায় নতুন বউ হয়ে এসেছি তখন দেখেছি এখানে সব কিছুই রয়েছে। বাজার ছিল স্কুল ছিল বড় বড় ঘর-বাড়ি ছিল। তেঁতুলিয়া নদী সবকিছু কেড়ে নিয়ে গেছে।’
সামসু মুন্সী বলেন, ‘এক এক করে আমাগো দুটা ঘর এই নদীতে লয়ে গেছে, এখন কিছুই নাই। পরের জায়গায় ঘর করে মোরা থাকি।’
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, বর্তমানে ভাঙন রোধে আমরা অস্থায়ীভাবে কাজ করবো। তবে শিগগিরই ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে সমাধানের কথা জানালেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে প্রবাসী-কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, ‘নদী ভাঙনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীকে সচল রেখে ভাঙন রোধের পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করছি।’
পটুয়াখালীতে মোট এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এরমধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ কিলোমিটার এবং ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুরো ক্ষতিগ্রস্ত।
আরটিভি/ এসকেডি




