ঝুঁকিতে আতাই নদীর বাঁধ, ১০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৪:৩৩ পিএম


ঝুঁকিতে আতাই নদীর বাঁধ, ১০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা
কামারগাতি-পথের বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-ছবি: সংগৃহীত

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার আতাই নদীর কূল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া কামারগাতি-পথের বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়কটিতে একসময় ভ্যান, রিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, নসিমন, করিমনের  পাশাপাশি বাসও চলাচল করত। কালিয়া, তেরোখাদা, গাজীরহাট, কোলা, আড়ুয়া আমবাড়ীয়া, কামারগাতী, লাখোয়াটি, মাধবপুর, রাধামাধবপুর, নন্দনপ্রতাপ, বারাকপুর, মোমিনপুর এলাকার মানুষের দৌলতপুর হয়ে শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম সড়ক ছিল এটি। তবে গত এক যুগ ধরে আতাই নদীর করাল গ্রাসে ভাঙতে ভাঙতে সড়কটির দুই তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে; রূপান্তরিত হয়েছে বেড়িবাঁধে। বিকল্প সড়ক দিয়ে এখন যাতায়াত করছে মানুষ। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বেড়িবাঁধটি এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মোমিনপুর-হাজীগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে সড়কের ওই অংশের বাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বাঁধের উপর দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে তৈরি হয়েছে বড় বড় ফাটলের। ভেঙে যাওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা দেখে শুক্রবার (১৬ জুলাই) তাৎক্ষণিকভাবে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে জোয়ারের পানি কমলে সন্ধ্যার পর থেকে রাত অবধি আলো জ্বালিয়ে বাঁশ এবং মাটি দিয়ে সংস্কার করে প্রাথমিকভাবে ভেঙে পড়া থামিয়েছে। তবে এখনও কাটেনি ঝুঁকি।

স্থানীয়রা বলেন, বাঁধটি ভেঙে গেলে দশটিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হবে। শত শত ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে।

তাদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর আতাই নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় এ এলাকায় সরকারিভাবে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও কোনো সুফল মিলছে না।

আরও পড়ুন

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং জোয়ারের পানি ৩/৪ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধের এ স্থানটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মূলত এটি বাঁধ নয়, একসময় এটি মূল সড়ক ছিল। ২০১৩ সাল থেকে ভাঙতে ভাঙতে এটি এখন বেড়িবাঁধে রূপান্তরিত হয়েছে। এ বছর ভাঙনের মূল পয়েন্ট এটি। আগে কখনও এ পয়েন্ট সংস্কার হয়নি। তবে পার্শ্ববর্তী পয়েন্টগুলোতে প্রতিবছর জিও ব্যাগ দিয়ে নামমাত্র সংস্কার কাজ করা হয়। এজন্য সরকারিভাবে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ‌ও দেওয়া হয়। ওই টাকা এলাকাবাসীর কোনো উপকারে না আসলেও পকেট ভারী হয় অনেকের।

স্থানীয় আরও এক বাসিন্দা বলেন, আপাতত গ্রামবাসীরা মিলে বাঁশ আর মাটি দিয়ে কোনোমতে বাঁধটি ঠেকিয়ে রেখেছি। তবে যেকোনো মুহূর্তে এটা ভেঙে পুরো দিঘলিয়া তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জরুরিভিত্তিতে সরকারিভাবে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হোক।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন দাশগুপ্ত বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে ইতোমধ্যে বাঁধটি সংস্কারের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। বাঁধে রাস্তার একটি বড় অংশ ভেঙে পানিতে চলে গেছে। সরজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গেও কথা বলেছি। পাশে যে ঘেরগুলো আছে পানি থাকায় যতই বাঁধ দেওয়া হোক না কেন তা টিকবে না বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের মতামত।

তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য স্যারের দৃষ্টিতে আসার পর স্যার আমার সঙ্গে এবং পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমিও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, মন্ত্রণালয়ের এ অংশের যিনি দেখাশোনা করেন—উপসচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সবাই কথা দিয়েছেন যে এবার সর্বোচ্চ স্থায়ী সমাধান করবেন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission