ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পানির নিচে হাতিয়ার ২৫ হাজার হেক্টরের ফসল, থামছে না কৃষকদের কান্না

হাতিয়া প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
ছবি: আরটিভি

টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ, জোয়ারের পানি এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় আউশ ধান, বীজতলা, মৌসুমি সবজি, ফল, মরিচ ও পানের বরজসহ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে কৃষকদের ২০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলার চরকিং চরকৈলাশ গ্রামের কৃষক কামাল উদ্দিন (৫৫)। জাহাজমারা–নলচিরা প্রধান সড়কের পাশে ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলা পরিচর্যা করতে দেখা যায় তাকে। কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলে কামাল জানান, গত ১০ দিন আগে ৩০ ডিসিমিল জমিতে ৬০ কেজি আমনের বীজ বপন করেন। টানা বর্ষণে তার বীজতলাটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। পরে বীজতলার চার পাশে উঁচু আড়ী বেঁধে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে। কিন্তু তাতে ও শেষ রক্ষা হয়নি। পানি শুকানোর সাথে সাথে নুয়ে পড়ছে বীজতলার ছোট ছোট ধানের চারা গুলি। অনেকটা আশা ছেড়ে দিয়ে পুনরায় বীজ বপনের চিন্তা করছেন কামাল। এজন্য তাকে ব্যয় করতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা।

তিনি আরও জানান, গত কয়েকদিন স্যালো মেশিন দিয়ে বীজতলার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করেছেন। আবার শ্রমিক নিয়োগ করে নিজেরা পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে চারা গুলো হলুদ বর্ণ থেকে লাল বণ হয়ে যাচ্ছে। উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে দেখিয়েছেন তিনি পুনরায় বীজতলা তৈরি করতে বলেছেন। এই চারা দিয়ে ধান রোপণ করা যাবে না বলে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শুধু কৃষক কামাল উদ্দিন নয় একই অবস্থা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সব এলাকাতেই। উপজেলার চরকিং ও চরঈশ্বর ইউনিয়ন সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু ভারি বর্ষণের ফলে তলিয়ে গেছে এই দুই ইউনিয়নের অধিকাংশ সবজি খেত। এখন পানি চলে যাওয়ার পর সবজি গাছগুলো গোড়ায় পচন ধরে মরে যাচ্ছে। অনেকে নিজেদের সহায় সম্বল বিক্রি করে এই সবজি চাষ শুরু করেন। আবার অনেকে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষে নেমেছেন। এখন মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে ক্ষেতের পাশে।

চরঈশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব গামছাখালী গ্রামটি সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। এখানে কৃষক ১২ মাস সবজি চাষ করে থাকেন। গত বুধবার বিকেলে কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে দেখা হয় সবজি খেতে। তাদের মধ্যে একজন জমির এক পাশ থেকে নিজের চাষ করা সবজি গাছ টেনে তুলে ফেলছেন।

কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলে মোতাহের হোসেন নামে এই কৃষক জানান, প্রায় এক একর জমিতে ঝিংগা চাষ করেছেন। এখনো বিক্রি করার মতো পরিপক্ব হয়নি খেতের সবজি গুলো। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে গাছের গোড়া পচে গেছে। এখন রোদের কারণে গাছ মরে গিয়ে লাল হয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু গাছ এখনো সতেজ মনে হলেও অধিকাংশ গাছ লাল হয়ে নেতিয়ে যাচ্ছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে পুরো খেত একই অবস্থা হয়ে যাবে। তাতে অপেক্ষা না করে এই গাছগুলো তুলে পেলে দিয়ে নতুন করে সবজি চাষের জন্য চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

মোতাহের আরও জানান, এনজিও থেকে টাকা নিয়ে এই সবজি ক্ষেত তৈরি করেছেন। তাতে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। সবজি বিক্রি করে এক টাকাও আয় করতে পারেননি। অন্যদিকে গত কয়েকদিন পানি নিস্কাশনসহ শ্রমিক নিয়োগ করে আরও কিছু টাকা ব্যয় করেছেন এই ক্ষেতে। এখন সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে নতুন করে সবজি চাষ করবেন। না হয় বেকার সময় পার করতে হবে।

আরও পড়ুন

গামছাখালী গ্রামের প্রবিন কৃষক নাজিম উদ্দিন জানান, কৃষক অতি বৃষ্টির কথা চিন্তা করে সবজি ক্ষেতে উঁচু আড়া বেঁধে চাষ করেছে। কিন্তু অধিক বৃষ্টিতে তাও তলিয়ে গেছে। তাতে হাতিয়ার প্রতিটি ইউনিয়নে সবজি থেকে সবার অবস্থা একই। সরকারিভাবে বীজ, সার ও কীটনাশক দেওয়া হয় বিভিন্ন সময়। কিন্তু এবার নগদ অর্থ না দেওয়া হলে কৃষক উঠে দাঁড়াতে পারবে না। কারণ- অনেকে নিজেদের সহায় শেষ সহায় সম্বল ও মূলধন ব্যয় করেছে এই সবজি চাষে। তাতে অনেকে নি:স্ব হয়ে পড়েছে। সামান্য বীজ, সার ও কীটনাশক দিয়ে তাদের নতুন করে সবজি চাষ সম্ভব হয়ে উঠবে না।

নাজিম উদ্দিন আরও জানান, গত ১০ বছরে ও হাতিয়াতে এমন বৃষ্টি হয়নি। এজন্য কৃষকরে আগাম প্রস্তুতিও ছিল না। এজন্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউশ ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমন বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি শাকসবজি, ৫৮ হেক্টর বিভিন্ন ফলের বাগান, ৪ হেক্টর মরিচ এবং ১০ হেক্টর পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাতে ৮০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাতে আনুমানিক ২০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বাছেদ সবুজ বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছে। তারা ক্ষতিগ্রস্থ জমিতে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। টানা বৃষ্টিতে হাতিয়াতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষকের। ইতোমধ্যে আমরা একটি প্রতিবেদন জেলা অফিসে পাঠিয়েছি। তাতে ইউনিয়নভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হবে।

‌আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বারেক ব্যাপারীর বাদ্যযন্ত্রে তল্লাশি, লুকানো ছিল বিদেশি পিস্তল
যাত্রীবাহী বাসে একটি পুরোনো ভাঙা হারমোনিয়াম নিয়ে যাচ্ছিলেন মো. বারেক ব্যাপারী। হারমোনিয়ামের ভেতরে কৌশলে লুকানো ছিল দুটি বিদেশি পিস্তল ও সাতটি গুলি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত দুইটার দিকে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানার পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় তল্লাশিচৌকি বসিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পরে বারেক ব্যাপারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সিগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি গুলি এবং অস্ত্র বিক্রির ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪-এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীটির অধিনায়ক মাসুদ রানা। এসআরবি জানায়, ৪৯ বছর বয়সী বারেক ব্যাপারীর বাড়ি পাবনা জেলায়, থাকেন ঈশ্বরদীতে। কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা রিয়াজ পরিবহনের একটি বাসে করে যাচ্ছিলেন। যমুনা সেতুর পূর্ব থানার পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় বাসটিতে তল্লাশি চালানোর সময় তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা পুরোনো হারমোনিয়ামের ভেতর থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, সাতটি গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। বারেককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসআরবি জানায়, অস্ত্র দুটি মুন্সিগঞ্জের সুজন ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল বারেকের। সুজন কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি কিনেছেন বলে তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসআরবি-১৪-এর টাঙ্গাইল ক্যাম্পের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১১-এর নারায়ণগঞ্জের একটি দল আজ সকাল সাতটার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শিরোলই এলাকায় সুজন ব্যাপারীর বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে সুজন ব্যাপারী (৩২) ও তার বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, তিনটি মুঠোফোনসহ নগদ ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ১১টি গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন, ৩টি মুঠোফোন ও ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি। এসআরবি অধিনায়ক মাসুদ রানা বলেন, এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। অস্ত্রগুলো কোথা থেকে এসেছে, কত দিন ধরে এ কাজে আটক ব্যক্তিরা জড়িত, সেসব বিষয় তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আরটিভি/এসএস
বারেক ব্যাপারীর বাদ্যযন্ত্রে তল্লাশি, লুকানো ছিল বিদেশি পিস্তল
টঙ্গীর পর এবার সাভারে আগুন
গাজীপুরের টঙ্গীর পর এবার সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মাদানী সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
টঙ্গীর পর এবার সাভারে আগুন
কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
গাজীপুর জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় মোবারক হোসেন (৫৪)নামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি গাজীপুর মহানগরীর ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের মেঘডুবি পূর্ব ইউনিট আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মোবারক হোসেন গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার মেঘডুবি এলাকার বাসিন্দা। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মোবারক হোসেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কারাগারের ভেতরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে গাজীপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নূর মোহাম্মদ সোহেল জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে মোবারক হোসেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলার বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি মোবারক হোসেনের জামিন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বর্তমানে তার মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল এলাকা থেকে মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচার চালানো এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। আরটিভি/টিআর
কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
গাছের রসে ১৫০ কোটি টাকার অর্থনীতি, গতি ফিরছে যশোরের গ্রামীণ জীবনে
‘যশোরের যশ, খেজুরের রস’—শত বছরের এই চেনা প্রবাদটি কেবল লোকসংস্কৃতির অংশই নয়, বরং দেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। 
গাছের রসে ১৫০ কোটি টাকার অর্থনীতি, গতি ফিরছে যশোরের গ্রামীণ জীবনে
বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন মনিকা, অতঃপর...
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ছোট কামারকুণ্ড গ্রামে মনিকা খাতুন (১৯) নামে দুই সন্তানের এক জননীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে বাবার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তা এখনো জানা যায়নি। নিহত মনিকা খাতুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট কামারকুণ্ড গ্রামের মতিয়ার রহমানের মেয়ে। তার স্বামী হাটগোপালপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে নিশান। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন মনিকা। বুধবার দুপুর ২টার দিকে তিনি গলায় ফাঁস দেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের বাবা মতিয়ার রহমান জানান, বুধবার সকালে মেয়ে তার খোঁজখবর নেন। পরে তিনি মাঠে গেলে মেয়ের আত্মহত্যার খবর পান। কী কারণে তার মেয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা পরিবারের কেউ বুঝতে পারছেন না। তবে তার মেয়ে কিছুটা রাগী স্বভাবের ছিলেন বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মনিকা খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন মনিকা, অতঃপর...
আরও পড়ুন
‘মানসিক চাপ, স্থূলতা এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে’
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা হবে এক হাজার: কৃষিমন্ত্রী
‘বিশ্ব ডিম দিবস’ উপলক্ষে বাকৃবিতে বিনামূল্যে ৩৫০০ ডিম বিতরণ
২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ সরকারের