ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুর সোনাতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন, রেজুলেশন ছাড়াই স্কুলের গাছ কেটে টাকা আত্মসাৎ, মৃত সভাপতির স্বাক্ষর জাল, চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ারসহ নানা অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হরিণাকুন্ডুর সোনাতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী ৩ শতাধিক। ওই বিদ্যালয়ে ১৯৯০ সালে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন ওই গ্রামের সাহাবুদ্দিন। ২০১৩ সালে সভাপতিকে জিম্মি করে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রধান শিক্ষক পদ বাগিয়ে নেন তিনি। এরপর থেকে স্কুলের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম শুরু করেন ওই শিক্ষক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালে ৩ জুলাই ওই বিদ্যালয়ের তৎকালীন সভাপতি আব্দুস সালামের স্বাক্ষর জাল করে অগ্রণী ব্যাংক কণ্যাদহ শাখা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করেন প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিন। এর দুই মাস পর সভাপতি টাকা উত্তোলনের বিষয়টি জানলে তিনি প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করে। পরে কয়েক দফা ক্ষমা চাওয়ার পর টাকা ফেরত ও আগামীতে এ ধরনের কাজ না করার শর্তে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে সেই কমিটি। এর আগে ওই বিদ্যালয়ের দুটি গাছ কেটে সেই টাকাও আত্মসাৎ করেন সাহাবুদ্দিন।
স্থানীয় বাসিন্দা মখলেছুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিন স্বাক্ষর জালসহ নানা অনিয়ম করেছে। সেগুলো তদন্ত করে প্রমাণিতও হয়েছে। এছাড়াও তিনি ঠিকমতো বিদ্যালয়ে থাকেন না।
আরেক বাসিন্দা ইমদাদুল হক বলেন, সাহাবুদ্দিন মাস্টার স্কুলের চাকরি দেওয়ার নাম করে হাবিবুরের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নিয়েছিল। টাকা দিয়ে চাকরি না পেয়ে শোকে হাবিবুরের বাবা স্ট্রোক করে মারা যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের মৃত সভাপতি পরিমল সাধুখার স্বাক্ষর জাল করে টাকার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিন তার এক আত্মীয়কে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। যিনি এখনও চাকরি করছেন।
সদ্য সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিন আমার স্বাক্ষর জালসহ নানা অনিয়ম করেছে। স্কুলের অর্থকমিটি থাকলেও কেনাকাটায় তিনি তাদের কোনো পরামর্শ নেন না। টাকার কোনো হিসাবও তাদের কাছে দেন না। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলেন। বিভিন্ন সময় মিটিং মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগের। তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দিয়েছি।
দুর্নীতির ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠছে তার কোনো সত্যতা নেই। স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি একটি মীমাংসিত বিষয়। ওই নিয়ে আর কথা নেই এখন।
আওয়ামী লীগে যোগদানের ব্যাপারে তিনি বলেন, ওই সময় প্রধান শিক্ষক হওয়ার জন্য করেছিলাম।
এ ব্যাপারে হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন বলেন, সোনাতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আসছে। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তদন্তের রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




