ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই যুগের দুর্ভোগের পর নিজ উদ্যোগে ড্রেন নির্মাণ করছে শ্রীপুরের বাসিন্দারা

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
ছবি: আরটিভি

গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রায় দুই যুগের দুর্ভোগ জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বপ্রণোদিত হয়ে ড্রেন নির্মাণ করছে স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলার নয়নপুর এলাকার হানু মার্কেট থেকে ডেকো গার্মেন্টস অভিমুখী আসাদুজ্জামানের বাড়ি পর্যন্ত এক হাজার ফুট ড্রেন নির্মাণকাজ চলছে। নিজেদের অর্থায়নে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় তাদের এমন উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এলাকার সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব নিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে যারা এই কাজটির সমন্বয় ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব মহলে ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছেন। ড্রেন নির্মাণের ফলে মশার উপদ্রব, দুর্গন্ধ ও পানিবাহিত রোগের প্রকোপ কমে আসবে। এমন উন্নয়নমূলক কাজে এলাকার অন্যান্য বাসিন্দাদেরও অনুপ্রাণিত করা সম্ভব বলে মনে করেন সচেতন মহল।

ব্যবসায়ী রফিক মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাওনা-ধনুয়া আঞ্চলিক সড়কের ওই অংশ জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পোশাক কারখানার শ্রমিক, যানবাহনের যাত্রী, চালক ও সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়ে আসছে। নতুন ড্রেন নির্মাণের ফলে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং চলাচল আরও সহজ হবে।

অটোরিকশাচালক ফয়েজ উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন সময়ে এলাকায় দ্রুত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় সড়কে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকদেরকে দীর্ঘদিন ধরে সড়কে জমে থাকা ময়লা পনি মাড়িয়ে দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। সড়কের সংস্কারকাজ চলমান থাকায় এলাকাবাসী সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থকে প্রায় ৪০টি পরিবার একত্রিত হয়ে নিজ উদ্যোগে তারা ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু করেছে।

স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম, সুজন, মর্জিনা ও আলপনা আক্তার বলেন, বছরের ৪-৫ মাস সড়কটির এই নিচু অংশ পানিতে তলিয়ে থাকত। বর্ষা মৌসুমে এখান দিয়ে চলাচল কষ্ট হয়ে যেত। রিকশা বা সাইকেল দিয়েও পানি পার হওয়া যেত না। মাঝে মাঝে কাদা পানিতে পড়ে গিয়ে জামা-কাপড় ময়লা পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেলে ওইদিন স্কুল বা কলেজে যাওয়া যেত না। স্থানীয়দের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।

আরও পড়ুন

ফল ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে সম্মিলিতভাবে নিজস্ব অর্থায়নে স্থানীয়দের জনকল্যাণমূলক ড্রেন নির্মাণের এই উদ্যোগ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে।

মুদি দোকানি ইসমাইল হোসেন বলেন, ড্রেন নির্মাণে সাময়িক দুর্ভোগ হলেও দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে আমরা মুক্তি পাচ্ছি। ড্রেন নির্মাণ শেষ হলেই আমরা পুরো সুবিধা ভোগ করতে পারব। সরকার বা জনপ্রতিনিধি যদি তাদের মতো চিন্তা করত তাহলে এ দুর্ভোগ থেকে অমরা আরও আগেই মুক্তি পেতাম।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ও মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফুল ইসলাম সরকার বলেন, সড়ক সংস্কারকাজ চলমান থাকাঅবস্থায় এখনই ড্রেন নির্মাণের উপযুক্ত সময়। এলাকাবাসীর এই উদ্যোগ জনস্বার্থে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাদের এ সমন্বিত উদ্যোগ আশপাশের এলাকার মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। তবে কাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করলে কাজটা আরও সহজ এবং ভালো হতো। এলাকাবাসীকে আবেদন করতে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
ফেরি করে মাদক বিক্রি, ক্রেতার বদলে মিলল ‘যমের দেখা’
কালিয়াকৈরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি ও লুঙ্গি পেয়ে খুশি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা
চোরাই বলে শিক্ষার্থীর আইফোন হাতিয়ে ক্ষান্ত হননি এসআই, ঘুষও নিলেন ১৭ হাজার
সাঁকোর জায়গায় ১৫০ ফুট মাটির রাস্তা নির্মাণ করলেন ছাত্রদল নেতা