ভারতের বাজারে বাংলাদেশের মাছের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে পাবদা, পাঙাশ, টেংরা ও তেলাপিয়া প্রজাতির মাছের চাহিদা বেশি থাকায় রপ্তানির সুযোগও প্রসারিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেনাপোল স্থলবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বন্দর দিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৩ হাজার ৭৪২ মেট্রিকটন রপ্তানি হয়েছে; এর মধ্যে পাবদা মাছই ১২ হাজার ১৬৯ টন। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৬ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৪৭০ কোটি ৬১ লাখ টাকার সমান।
সোমবার (৪ মে) যশোর জেলা মৎস্য অফিসে অনুষ্ঠিত ‘রপ্তানি বৃদ্ধিতে মাছের পোনা উৎপাদনে বৈচিত্র্যকরণ ও চাষ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
কর্মশালার আয়োজন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও বাংলাদেশ নন-প্যাকার ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএনপিএফইএ)। এতে মৎস্যচাষি ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন উদ্যোক্তারা অংশ নেয়। কর্মশালায় অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে দেশে রপ্তানি আয় বাড়াতে মৎস্য চাষি ও উদ্যোক্তাদের কাজ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন জানান, যশোরের মণিরামপুর, ঝিকরগাছা ও সদর উপজেলার লক্ষাধিক চাষি রপ্তানিমুখী মাছ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। তাদের উৎপাদিত মাছই রপ্তানির বড় অংশ জোগান দিচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে পাবদা, ইলিশ, ভেটকি, ট্যাংরা ও পাঙাশ মোট ৬৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৯৯ কেজি মাছ ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে। এর আর্থিক মূল্য ছিল ২ কোটি ৭২ লাখ ১৩ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। মোট রপ্তানির মধ্যে ৭৬ দশমিক ৮০ শতাংশই ছিল পাবদা।
তিনি আরো জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একই বন্দর দিয়ে রপ্তানি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮২ লাখ ৯২ হাজার ৫৫০ কেজিতে। সে সময় আয় হয় ২ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭৫ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩১২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানির পরিমাণ ও আয় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। স্থানীয়ভাবে পোনা উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে এ খাত আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে জানান তিনি।
আরটিভি/কেডি



