ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোনের হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে মার্কিন হামলার পর বসে থাকেনি ইরানও; তারাও সঙ্গে সঙ্গেই এই হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) জানিয়েছে, উপসাগরে একটি ট্যাংকারের ওপর ইরানি ড্রোন হামলার জবাবে তারা ইরানের ‘ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোর’ ওপর একটি ‘শক্তিশালী’ হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকম আরও বলেছে, ‘গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ (হরমুজ প্রণালি) দিয়ে যখন ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ছে, তখন ইরানের এমন বিপজ্জনক আচরণ নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।’
ইরান এই মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং সেই সঙ্গে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, ওয়াশিংটন ‘বরাবরের মতোই তার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে’ এবং জবাবে ইরানের নৌবাহিনী এই অঞ্চলের সেই সব স্থানে হামলা চালিয়েছে যেখানে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সংস্থাটি আরও যোগ করেছে, ‘এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে আমাদের জবাব আরও ব্যাপক ও ভয়াবহ হবে।’
সেন্টকমের এই ঘোষণার পরই ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ইরানের একটি সামরিক সূত্র অনুসারে, শুক্রবার স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত ১১টা ১৫ মিনিটে দক্ষিণ ইরানের বন্দরনগরী সিরিকের ডক এলাকায় একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
হামলার আগে শুক্রবার দিনের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কঠোর সতর্কবার্তায় বলেন, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’তে হওয়া হামলা দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। আমরা তা পুরোপুরি মেনে চলেছি। সমঝোতা স্মারকটি কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা নিয়ে যদি তাদের কোনো মতবিরোধ থাকে, তবে তারা ফোন করতে পারত।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।’
কয়েক মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসানে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ওই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই সমঝোতায় ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে’ বন্ধ করার কথা রয়েছে। তবে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে আবারও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পরই এই প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, সারসহ অন্যান্য জরুরি পণ্যের দাম হুহু করে বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে গত সপ্তাহের সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী ৬০ দিনের একটি সময়সীমা ঠিক করা হয়। এই সময়ে কোনো ধরনের মাশুল ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এই প্রণালি দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ওমান উপকূলের কাছে এই নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘এভার লাভলি’ জাহাজে একটি ‘প্রোজেক্টাইল’ বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে এতে জাহাজের কোনো নাবিক বা ক্রু আহত হননি। ফলে কনটেইনারবাহী জাহাজটি অক্ষত অবস্থায় তার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনার জন্য ইরানকে সরাসরি দায়ী করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর দিকে অন্তত চারটি একমুখী হামলার ড্রোন (ওয়ান ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন) ছুড়েছে দেশটি। তার মতে, তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও চতুর্থ ড্রোনটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
আরটিভি/এআর



