শিল্পী সমিতির সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে জায়েদ খানের কাছে ১৩ ভোটে হেরেছেন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী চিত্রনায়িকা নিপুণ। প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করেছিলেন তিনি। তবে আপিল করেও ব্যর্থ। এবার সাধারণ সম্পাদক পদে পুনরায় নির্বাচন চান নিপুণ।
আজ (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান চিত্রনায়িকা নিপুণ।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও আনেন তিনি। জায়েদ খানের বিরুদ্ধে ভোট কেনাসহ বাইরে থেকে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করেন এই নায়িকা। এ ছাড়াও প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা হারুনের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিকর প্রস্তাবের বিষয়টি সামনে আনেন।
এ ছাড়াও নিপুণ প্রজেক্টরে, মেসেঞ্জারের কিছু কথপোকথের স্ক্রিনশট সবার উদ্দেশ্যে দেখিয়েছেন। সেই স্ক্রিনশটে দেখা মেলে জায়েদ খানের সঙ্গে একজনের কথপোকথন। কিন্তু কে? এখন প্রশ্ন উঠেছে এটাই। যদিও নিপুণের সংবাদ সম্মেলনের পর জায়েদ খান নানান বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এক পর্যায়ে তিনি নিপুণের দেখানো স্ক্রিনশট নিয়ে কথা বলেছেন।
জায়েদ খান বলেন,‘ ঘটনা যদি সত্যি হয় তাহলে যার সঙ্গে কথা বলেছি তার নামটি কেন প্রকাশ করেনি। যদি স্ক্রিনশট ঠিক থাকে তাহলে, যার কাছে মেসেজ পাঠিয়েছি, তার ছবিটা কোথায়? দুইজনের সঙ্গে আলাপের স্ক্রিনশট দেখানো হয়েছে, তাহলে সেই মানুষটা কে? আমরা এত বোকা না। স্ক্রিনশট দিয়ে তার নামটা সরিয়ে দেবেন, তাহলে কীভাবে হবে! ওই লোকটাকে সামনে আনেন। যাকে আমি এসব মেসেজ দিয়েছি, তাকে দেখতে চাই। এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট। আমার একটা ছবি দিয়ে প্রোফাইল খুলে এই স্ক্রিনশটগুলো রেডি করে তারপর ছেড়ে দিয়েছে। আমি ওইদিনই বিষয়টি নিয়ে সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্টে কথা বলেছি। অলরেডি স্ক্রিনশট পাঠিয়ে দিয়েছি। তারা এটা নিয়ে কাজ করছেন। এটা যে করেছে, তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য আমি মামলা পর্যন্ত করব।
এ প্রসঙ্গে জায়েদ খান আরও বলেন, ‘যার সঙ্গে কথা বললাম তার তো কোনো পরিচয়ই দিতে পারলো না কেউ। মেসেজের পাশে ওই ব্যক্তির ছবিও থাকার কথা, ওপরে নাম থাকার কথা। এসব কিছুই তো নেই। এটা কীভাবে সম্ভব। আমি বলেছিলাম, আমাকে মার্ডার কেসে আটকানোর চেষ্টা করেছে, পপিকে দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করেছে, এখন এগুলো শুরু করেছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। সত্যটা সবাই জানে।’
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ১৭তম নির্বাচন। বিএফডিসিতে সকাল ৯টা ১৬ মিনিটে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয় বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে। এবারের নির্বাচনে ৪২৮ জন ভোটারের মধ্যে ৩৬৫ জন ভোটার উপস্থিত হয়েছেন। ২১টি পদে তাদের প্রতিনিধি বাছাই করেন।
এবারের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে ১৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জায়েদ খান এবং তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিপুণ পেয়েছেন ১৬৩ ভোট।
কেইউ/এসকে




