একসময় সিনেমা ও টেলিভিশনের দুনিয়ায় দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেছেন। ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও এসেছে তার ঝুলিতে। অথচ সেই রোহিণী হট্টঙ্গডি হঠাৎ করেই টেলিভিশন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর এবার সেই সিদ্ধান্তের কারণ ও অতীতের কিছু অজানা অধ্যায় তুলে ধরলেন বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী।
মঞ্চ, সিনেমা ও টেলিভিশন-তিন মাধ্যমেই সমান দক্ষতায় অভিনয় করে নিজের জায়গা পোক্ত করেছিলেন রোহিণী হট্টঙ্গডি। রিচার্ড অ্যাটেনবরো পরিচালিত ‘গান্ধী’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে বাফটা পুরস্কার জেতেন তিনি। অন্যদিকে, ১৯৮৪ সালের ছবি ‘পার্টি’-র জন্য পান ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
৭৫ বছর বয়সেও তিনি স্পষ্টভাষী ও আত্মবিশ্লেষণে অকপট। দ্য ফ্রি প্রেস জার্নালকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রোহিণী জানান, টেলিভিশনের লাগাতার চাপই তাকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।

তার কথায়, আমাদের সময়ে আলাদা করে জিমে যাওয়ার চল ছিল না। কাজই ছিল ব্যায়াম। কিন্তু টেলিভিশনে কাজ মানে ভোরবেলার কলটাইম, রাত ১১টা পর্যন্ত শুটিং, আবার সকাল ৬টায় বেরোনো-এই রুটিন শরীর ও মন দুটোই নিঃশেষ করে দিচ্ছিল।
ব্যায়াম, বিশ্রাম কিংবা নিজের জন্য সময়-কিছুই থাকছিল না বলে জানান তিনি।
শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তির কথা ভেবেই টেলিভিশন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
রোহিণীর অভিযোগ, মারাঠি টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে শৃঙ্খলার অভাব ছিল সবচেয়ে বড় সমস্যা। হঠাৎ ফোন করে সেটে ডেকে নেওয়া, শেষ মুহূর্তে স্ক্রিপ্ট বদল, নতুন দৃশ্য যোগ-এই অনিশ্চয়তা তিনি মানতে পারেননি।
এমন বিশৃঙ্খল পরিবেশে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না, স্পষ্ট ভাষায় জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তার থিয়েটার জীবনের স্মৃতিও। দিল্লির থিয়েটারে কাজ করার সময় হিন্দি উচ্চারণ নিয়ে প্রায়ই ঠাট্টার শিকার হতে হয়েছিল তাকে। কেউ কেউ বলতেন, তার হিন্দিতে ‘পাঞ্জাবিয়ানা’ আছে।
এছাড়াও তিনি শেয়ার করেন ‘শাহেনশাহ’ ছবির সেটে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার কথা। ‘মেরে অঙ্গনে মে’ গানের দৃশ্যে অমিতাভ বচ্চনের অভিনয় দেখে বিস্মিত হয়ে তিনি মন্তব্য করে ফেলেন।
“আমি শুধু বলেছিলাম-অমিতাভ বচ্চনের মতো অভিনেতা এমনভাবে নাচবেন কেন! সমালোচনা করার জন্য নয়, বিস্ময় থেকেই বলেছিলাম,” বলেন রোহিণী।
কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, মন্তব্যটি করা ঠিক হয়নি। অমিতাভ বচ্চন কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নীরবেই সরে যান।
“আমি ভুল করেছিলাম। তার নীরবতাই তার মহত্ত্ব-ওটাই আমাকে আজও ভাবায়,” স্বীকার করেন রোহিণী হট্টঙ্গডি।
আরটিভি/কেআই




