কেনিয়ায় ফেলে দেওয়া শিপিং কন্টেইনারের পুনর্ব্যবহার হচ্ছে। এগুলো দিয়ে ছোট ছোট বাড়ি তৈরি করছেন ডিজাইনার গ্রেস আদিয়াম্বু। এর মাধ্যমে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ তৈরি করতে চান তিনি।
আফ্রিকায় জনসংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে নগরায়নও। শুধুমাত্র কেনিয়াতেই প্রতিবছর আড়াই লাখের বেশি নতুন বাড়ির প্রয়োজন। ফেলে দেওয়া শিপিং কন্টেইনার দিয়ে বাড়ি তৈরি আবাসন সমস্যার সমাধানে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া কংক্রিট এবং কাঠের মতো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নির্মাণ সামগ্রীর বিকল্প হতে পারে এটি। বেশ কয়েকটি কোম্পানি এই বিষয়ে কাজ করছে।
এমন এক কোম্পানি কিউবস অ্যান্ড কন্টেইনার্স। এর প্রতিষ্ঠাতা গ্রেস আদিয়াম্বু জানান, তারা বাতিল শিপিং কন্টেইনার কিনে সেগুলো পুনর্ব্যবহার করেন। মোম্বাসা থেকে বাক্সগুলো সংগ্রহের পর সেগুলো আমরা এখন যেখানে আছি সেখানে, মানে নাইরোবিতে, নিয়ে আসি। ক্রেতারা এখানে এসে কন্টেইনার নির্বাচন করেন। তখন আমরা তাদের একটি নকশা প্রস্তাব করি, কিংবা তারাও তাদের নকশ জমা দিতে পারেন। এরপর আমরা নির্মাণকাজ শুরু করি, বলেন তিনি। ইট এবং সিমেন্ট দিয়ে বাড়ি তৈরির চেয়ে এতে খরচ কম হয়।
আদিয়াম্বু বলেন, কন্টেইনার দিয়ে বাড়ি তৈরি করতে চাওয়ার মতো বেশ কয়েকটি গ্রুপ আছে। যেমন, তরুণ দম্পতিরা, যারা বাড়ির মালিক হওয়ার কথা ভাবছেন। এছাড়া এমন মানুষ আছেন যারা বর্তমানে লিজ নেওয়া জমিতে আছেন, যারা এখনও নিজস্ব জায়গা কিনতে পারেননি। বিশ্বের অনেক জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী আবাসন হিসাবে কন্টেইনার ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে স্থায়ী আবাসন হিসাবেও এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। একটি শিপিং কন্টেইনার গড়ে ১২ থেকে ২৫ বছর ব্যবহার করা যায়। বাড়ি হিসাবে এগুলো আরও ২৫ বছর বা তার বেশি সময় ধরে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর জন্য সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
আদিয়াম্বু বলেন, কন্টেইনারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যে রক্ষণাবেক্ষণ আপনি করতে পারেন তা হলো, বিশেষ করে আপনি যদি বাইরে কিছু না লাগিয়ে থাকেন, তাহলে রঙ স্প্রে করতে পারেন। অর্থাৎ, কয়েক বছর পর আপনি যদি দেখেন মরিচা পড়েছে তাহলে রঙ স্প্রে করতে পারেন। কন্টেইনার বাড়ির দুটি প্রধান সুবিধা হলো সাশ্রয়ী মূল্য এবং নমনীয়তা। এছাড়া এগুলো যে দ্রুত সংস্কার করা যায় সেটিও অনেকের কাছে আরেকটি সুবিধা।
কন্টেইনার বাড়ির মালিক হেনরি ওডুডো জানান, ঠিকঠাক বাড়ি করার সময় আমার ছিল না। ২০২০ সাল থেকে আমি এখানে বাস করছি। এখন পর্যন্ত এটি থাকার একটি আদর্শ জায়গা। যারা এই ধরণের কিছু পেতে চান তাদের আমি পরামর্শ দেব যে আপনি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যান। তবে কন্টেইনারের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। বিশেষ করে কেনিয়ার মতো জলবায়ুর দেশে বায়ু চলাচল ও ইনসুলেশনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হয়।
গ্রেস আদিয়াম্বু জানান, কাঠামো স্থিতিশীল রাখার জন্য স্মার্ট নকশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যেন গরম কম হয় আর আলো বেশি থাকে। আবাসন হিসেবে কন্টেইনার ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কেমন, তা এখনও নিশ্চিত নয়- তবে সম্ভাবনাময়।
আরটিভি/এএইচ




