ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দরে ভয়াবহ বন্দুক হামলা, নিহত ৩৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
দিওরি হামানি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের একাংশ। ফাইল ছবি

আফ্রিকার দেশ নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দর দিওরি হামানি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৫ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিসি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালের দিকে ঘটেছে এ হামলার ঘটনা।

এক বিবৃতিতে নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং ২ জন বেসামরিক আছেন।

এছাড়া হামলাকারীদের মধ্যে ৪ জন আহত হয়েছে এবং ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এবং গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে একাধিক আরপিজি-৭ রকেট প্রোপেল্ড গ্রেনেড লাঞ্চার, বেশ কয়েকটি একে ৪৭, বিস্ফোরক, বেশ কয়েকটি গ্রেনেড, ওয়াকিটকি এবং কয়েক হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।

এদিকে, হামলার দায় স্বীকার করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিবৃতি দিয়েছে নাইজারের সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী জামা’য়াত নুসরাত আল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম)। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক ইসলামি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আল কায়েদার সমর্থনপুষ্ট।

আরও পড়ুন

দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরবেলায় ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার পর পরই বিমানবন্দর এলাকায় গুলি ও বিস্ফোরণের আওয়াজ পান তারা।

লাওয়ালি সালহা নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেন, আমার বাসা বিমানবন্দরের কাছাকাছি। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার পর পর আমরা প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কাছাকাছি কোনো ট্রাক কিংবা বাসের টায়ার ফেটে গেছে। পরে গুলির শব্দ শুনে বুঝতে পারলাম যে আসলে কী ঘটছে।

উল্লেখ্য, দিওরি হামানি নাইজারের সবচেয়ে স্পর্শকাতর নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর একটি। মূলত, বেসামরিক হলেও এই বিমানবন্দরে নাইজার সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটি রয়েছে। এছাড়া, এ বিমানবন্দরে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলভুক্ত দেশগুলোর জোট অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস বা এইএসের স্থাপনাও আছে। এই জোটের সদস্যরাষ্ট্র ৩টি— নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসো।

এ কারণে বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কড়া। বিমানবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ৩৫০টিরও বেশি নজরদারি ক্যামেরা আছে।

পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম অধ্যুষিত দেশ নাইজারের সরকার ও সেনাবাহিনী গত ১০ বছর ধরে কট্টর ইসলাপন্থি বিভিন্ন সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করছে। এর আগে, গত জানুয়ারিতে একবার একই বিমানবন্দরে হামলা করেছিল আইএসপন্থি একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। সেই হামলায় নাইজারের একজন সেনাসদস্য এবং ২০ জন হামলাকারী নিহত হয়েছিলেন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘আন্তর্জাতিক অপরাধের’ ভুক্তভোগীদের নোবেল উৎসর্গ নাভি পিল্লাইয়ের
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবী ও সাবেক জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই।
‘আন্তর্জাতিক অপরাধের’ ভুক্তভোগীদের নোবেল উৎসর্গ নাভি পিল্লাইয়ের
দুই নৌকার ভয়াবহ সংঘর্ষে কঙ্গোতে নিহত ৩০
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) কঙ্গো নদীতে দুই নৌকার সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
দুই নৌকার ভয়াবহ সংঘর্ষে কঙ্গোতে নিহত ৩০
নাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ আরোহীর সবাই নিহত
নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ওন্দো প্রদেশে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩২ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন যাত্রী ও সাতজন ক্রু সদস্য ছিলেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু দুর্ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ আরোহীর সবাই নিহত
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিজ দেশ জিম্বাবুয়েতে ফিরেও কাটছে না দুর্ভোগ 
দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী উত্তেজনার মধ্যে জিম্বাবুয়েতে ফিরে আসা হাজারো মানুষ এখন নতুন করে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিজ দেশ জিম্বাবুয়েতে ফিরেও কাটছে না দুর্ভোগ 
সোমালিয়ায় ইসরায়েলিদের উপস্থিতি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি প্রেসিডেন্ট হাসানের
সোমালিয়া ‘কোনো অবস্থাতেই’ দেশটিতে ইসরায়েলি উপস্থিতি মেনে নেবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে জড়িয়ে পড়ার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা প্রতিহত করবে বলে জানিয়েছেন সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ। সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেন তিনি।  হাসান শেখ মোহামুদ বলেন, ইসরায়েল বারবার্বায় একটি নৌঘাঁটি স্থাপন ও বিমানবন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য হলো উপসাগরীয় দেশগুলোর ও ইরানের কাছাকাছি যাওয়া। বারবার্বা হলো সোমালিল্যান্ডের এডেন উপসাগর উপকূলের একটি বন্দরনগরী। সোমালিল্যান্ড হলো সোমালিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র, যাকে ইসরায়েল গত বছর স্বীকৃতি দিয়েছিল, কিন্তু মোগাদিশু এই অঞ্চলটিকে নিজেদের বলে দাবি করে।  বারবার্বা কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি সমুদ্রের ওপারে ইয়েমেনের মুখোমুখি অবস্থিত। ইরানপন্থি হুথিরা এর আগে এ এলাকায় ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছিল। এ বিষয়ে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরায়েলি পরিকল্পনাগুলো ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এই শব্দ এমন বিভিন্ন প্রস্তাবকে বোঝায়, যা প্রায়শই বাইবেলের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে বর্তমান সীমানার বাইরে ইসরায়েলের ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণের কথা বলে। এর কিছু রূপ নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। ইসরায়েল এটিকে তাদের আনুষ্ঠানিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করেনি, তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৫ সালের আগস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি এই দর্শনের সঙ্গে নিজের সংযোগ অনুভব করেন, যা আরব সরকারগুলোর তীব্র নিন্দা কুড়িয়েছিল। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকে একটি ‘অস্থিতিশীলতাকারী শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে না। গত ডিসেম্বরে সোমালিল্যান্ডকে তেল আবিবের স্বীকৃতি দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। মোহামুদ বলেন, ইসরায়েল ছাড়া অন্য কোনো দেশ সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়নি, অথচ ওই অঞ্চলের নিজস্ব বাসিন্দারাও ইসরায়েলি উপস্থিতির সম্পূর্ণ বিরোধী। সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয় এবং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের স্বাধীনভাবে পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু ইসরায়েলি পদক্ষেপের আগ পর্যন্ত তারা জাতিসংঘের কোনো সদস্য রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাদের দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার। প্রধান শহরগুলোতে আল-শাবাবের কোনো উপস্থিতি নেই, ফলে এই গোষ্ঠীটির সোমালিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আল-শাবাব একটি সোমালি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যা দুই হাজার দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইসলামিক কোর্টস ইউনিয়ন থেকে আত্মপ্রকাশ করে এবং ২০১২ সালে আল-কায়েদার প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করে। তারা বছরের পর বছর ধরে সোমালিয়ার ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সোমালিয়ার দক্ষিণ ও মধ্য অংশের কিছু এলাকা দখল করে রেখেছে এবং মোগাদিশু ও প্রতিবেশী কেনিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক হামলা চালিয়েছে। পূর্ব আফ্রিকা অঞ্চলের বিষয়ে সাক্ষাৎকারে মোহামুদ বলেন, প্রতিবেশী ইথিওপিয়ার সঙ্গে সোমালিয়ার সম্পর্ক ভালো এবং অর্থনৈতিক স্বার্থে সোমালি বন্দরগুলো ব্যবহারের জন্য যৌথ চুক্তির মাধ্যমে আদ্দিস আবাবার সমুদ্রের প্রবেশাধিকার অর্জনে মোগাদিশুর কোনো আপত্তি নেই। ১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ইথিওপিয়া স্থলবেষ্টিত রয়েছে এবং বাণিজ্যের জন্য মূলত জিবুতির বন্দরগুলোর ওপর নির্ভর করে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আদ্দিস আবাবা সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সমুদ্র প্রবেশাধিকারের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যাকে সোমালিয়া তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানায়। পরে সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া উত্তেজনা প্রশমনে সম্মত হয়। আরটিভি/এসআর
সোমালিয়ায় ইসরায়েলিদের উপস্থিতি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি প্রেসিডেন্ট হাসানের
আরও পড়ুন
কুমিল্লায় বাস খাদে পড়ে হেলপার নিহত, আহত ৫
সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর
কাজ শেষে বাসায় ফেরা হলো না ফালু মিয়ার
স্বামীর মোটরসাইকেলে স্কুলে যাচ্ছিলেন শিক্ষিকা, মুহূর্তেই পিষে দিলো ট্রাক