ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের দুই সপ্তাহ পার হয়েছে। শত্রুপক্ষের যৌথ আগ্রাসনের জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
এরই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাংকের শাখায় হামলার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। তবে, কোথায় এবং কোন ব্যাংকে হামলা চালানো হয়েছে সেটি স্পষ্ট করা হয়নি। খবর আল-জাজিরার।
আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার নাইনি বলেন, উপসাগরীয় রাষ্ট্রে অবস্থিত একটি মার্কিন ব্যাংকের শাখায় হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের দুটি ব্যাংকে হামলা চালানোর জবাব হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরদার নাইনি।
হুঁশিয়ারি দিয়ে আইআরজিসির মুখপাত্র বলেছেন, যদি শত্রুরা একই কাজ আবার করে তাহলে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতে যত মার্কিন ব্যাংকের শাখা রয়েছে সবগুলোতে হামলা চালানো হবে।
এদিকে দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র এলাকায় দুটি ধারাবাহিক বিস্ফোরণের কারণে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শাখাগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। কর্মীদের বাসায় বসে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো, যার মধ্যে রয়েছে সিটিগ্রুপ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। এছাড়া কাতারে অবস্থিত এইচএসবিসির শাখাও বন্ধ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো অঞ্চলের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করেছেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টু্ইটার) এক পোস্টে তিনি লেখেন, চলমান যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো অঞ্চল বা কোনও দেশকে রক্ষা করে না; বরং এগুলো হুমকি।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমেরিকা ইসরায়েলের জন্য সবাইকে কোরবানি দেয় এবং ইসরায়েল ছাড়া আর কারও ব্যাপারে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই।
ইরানের এই স্পিকার আরও বলেন, আমেরিকার ওপর নির্ভর করে বা তাদের আশ্রয়ে যারা থাকে, তারা আক্ষরিক অর্থেই নগ্ন কিংবা অরক্ষিত!
অন্যদিকে, ইসরায়েলে ফের রকেট হামলার কথা জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের সশস্ত্র সংগঠনটি থেকে বলা হয়, তারা উত্তর ইসরায়েলের গোরেনকে লক্ষ্য করে রকেট ছুঁড়েছে।
ইরান যুদ্ধের পর থেকেই অনেকটা বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালি। এ প্রণালিতে বোমা হামলার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের জেরে যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত তারা সবাই মিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে সেখানে যুদ্ধ জাহাজ পাঠাতে পারেন। এতে করে প্রণালিটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।
ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার বিষয়ে আগের দাবিগুলো ফের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তবে, তিনি স্বীকার করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে তাদের জন্য এক-দুটি ড্রোন পাঠানো কিংবা একটি মাইন ফেলে দেওয়া বা স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা খুবই সহজ।
পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, আশা করি, চীন, জাপান, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্যসহ অন্য যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠাবে, যাতে আর কোনও হুমকি হয়ে না থাকে।
আরটিভি/এসএইচএম




