গণহত্যার পক্ষে দাঁড়ানো মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কার, অ্যাসেঞ্জের মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:০৫ এএম


গণহত্যার পক্ষে দাঁড়ানো মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কার, অ্যাসেঞ্জের মামলা
শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ও উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ফাইল ছবি

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ায় সুইডেনে নোবেল ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা ও হামলার পক্ষে অবস্থান নেওয়া মাচাদোকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টিকে ‘তহবিলের গুরুতর অপব্যবহার’ এবং সুইডিশ আইনের আওতায় ‘যুদ্ধাপরাধে সহায়তা ও উৎসাহ প্রদান’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

প্রতিবেদন অনুসারে, মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের অর্থ হিসেবে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১১ লাখ ৮০ হাজার ডলার) প্রদান বন্ধে পদক্ষেপ চেয়েছেন অ্যাসাঞ্জ। 

বিজ্ঞাপন

বুধবার দায়ের করা ওই অভিযোগপত্রে নোবেল ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বসহ মোট ৩০ জনকে তহবিল অপব্যবহার, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা এবং আগ্রাসনের কাজে অর্থায়নের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এর আগে, গত অক্টোবরে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একনায়কতন্ত্র থেকে মুক্তির শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য মাচাদোকে পুরস্কৃত করে নোবেল কমিটি। তবে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের মতে, এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে নোবেল পুরস্কারকে শান্তির হাতিয়ার থেকে যুদ্ধের উপাদানে রূপান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগে অ্যাসাঞ্জ দাবি করেন, মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপকে সমর্থন করছেন, যাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এটি নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা আলফ্রেড নোবেলের উইলে বর্ণিত আদর্শের লঙ্ঘন। তার বক্তব্যে বলা হয়, নোবেলের ১৮৯৫ সালের উইলে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে শান্তি পুরস্কার এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য, যারা পূর্ববর্তী বছরে মানবতার উপকারে জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবে।

মাচাদোর নোবেল জয় নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক আছে। কারণ, তিনি গাজায় ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা ও হামলার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছেন। এমনকি নোবেল জয় ঘোষণার পরপরই তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপ করে তাকে সমর্থন জানান। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে ভেনেজুয়েলার দূতাবাস ইসরায়েলের জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

এছাড়া, মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর অবস্থানের প্রতিও সমর্থন জানান। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে, মাদুরো অপরাধী মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি। যদিও এই দাবির বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ভেতরেই সন্দেহ রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ও লাতিন আমেরিকার উপকূলে কথিত মাদকচক্রের নৌযান লক্ষ্য করে ২০টির বেশি সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে এখন পর্যন্ত ১০৪ জন নিহত হয়েছে। একইসঙ্গে লাতিন আমেরিকায় মোতায়েন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমান বাহিনীর বিশাল বাহিনী, যা ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

অ্যাসাঞ্জ বলেন, মাচাদোর এসব সামরিক অবস্থান শান্তির মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, নোবেলের তহবিল ‘যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্যবহার হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে’। যদিও শান্তি পুরস্কার নরওয়েতে ঘোষিত হয়, আর্থিক সিদ্ধান্তে স্টকহোমভিত্তিক ফাউন্ডেশনকে দায় নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন অ্যাসাঞ্জ।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ২০০৬ সালে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০১০ সালে মার্কিন সেনা গোয়েন্দা বিশ্লেষক চেলসি ম্যানিংয়ের ফাঁস করা বিপুল তথ্য প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলেন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission