ভারতের উত্তর প্রদেশে আমির নামে এক ব্যক্তি তার অন্তঃসত্ত্বা ভাবিকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
রোববার( ১০ মে) সন্ধ্যায় রাজ্যের সাহারানপুরে একটি বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতের নাম সানা নাজ বলে জানা গেছে।
পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, ছয় মাস আগে আমিরের বড় ভাই সালমানের সঙ্গে ভালোবেসে বিয়ে হয়েছিল সানার। রোববার সন্ধ্যায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে ঢোকেন আমির। তখন কোনও একটি বিষয় নিয়ে ভাবি সানার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় তার। এক পর্যায়ে ঘরে থাকা একটি কোদাল নিয়ে সানার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন আমির। অন্তঃসত্ত্বা সানার মাথা, ঘাড় ও পেটে কোদাল দিয়ে মুহুর্মুহু আঘাত করেন তিনি।
এসময় সানার চিৎকারে প্রতিবেশীরা জড়ো হলেও আমিরের হাতে রক্তমাখা কোদাল দেখে কেউ কাছে যাওয়ার সাহস পাননি। এমনকি স্বামী সালমান স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলেও আমির কোদাল উঁচিয়ে তাকে হুমকি-ধমকি দেয়। এই অবস্থায় সালমান কোনোমতে পালিয়ে পুলিশকে খবর দেন।
কিন্তু, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। আমির তখন একটি গ্যাস সিলিন্ডারের ভালভ খুলে দিয়াশলাই হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পুলিশকে তিনি হুমকি দেন, ‘কেউ কাছে এলে পুরো বাড়ি উড়িয়ে দেওয়া হবে।’
এসময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীদের অনেকেই ভয়ে নিজেদের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। পুলিশ ও হত্যাকারীর মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে টানটান উত্তেজনা। অবশেষে অনেক চেষ্টার পর পুলিশ আমিরকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং তাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, রোববার রাত পৌনে আটটার দিকে সালমান তাদেরকে ঘটনাটি অবহিত করেন। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা মাটি ও অস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহত সানার শরীরের অনেকগুলো গভীর ক্ষত দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় নিহত নারীর বাবা মোহাম্মদ আশিকের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহই নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। অভিযুক্ত আমিরের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
আরটিভি/এমএস




