টানা ৩৭ দিনের তীব্র আন্দোলন শেষে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চেয়ার ছেড়ে দিতে বললেন দেশটির তরুণদের নতুন প্লাটফর্ম তেলাপোকা বা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। দেশের দায়িত্ব অন্য কাউকে দিয়ে মোদিকে ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হয়ে যাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
একইসঙ্গে প্রশ্নফাঁস রোধে লোকসভায় পাস হওয়া নতুন আইন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ। ‘তেলাপোকা পার্টির’ প্রতিষ্ঠাতা বলেছেন, শুধু আইন করলেই হবে না, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে কোনও পরিবর্তন আসবে না।
বুধবার (২৯ জুলাই) মহারাষ্ট্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে খোঁচা দিয়ে এসব মন্তব্য করেন অভিজিৎ দিপকে। খবর হিন্দ্যস্তান টাইমসের
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তরুণদের উদ্দেশে মোদির প্রকাশিত ভিডিওগুলোর প্রসঙ্গ টানেন ‘তেলাপোকা পার্টির’ প্রতিষ্ঠাতা। অভিজিৎ বলেন, আমার মনে হয়, মোদির ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। তিনি সেটা খুব ভালোই করছেন। যদি তিনি এত ভালো ইনফ্লুয়েন্সার হন, তাহলে আপনার (মোদির) প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে দেয়া উচিত এবং ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। আর দেশের দায়িত্ব অন্য কাউকে পালন করতে দিন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার কংগ্রেসের সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও মোদির ইনস্টাগ্রাম ভিডিও নিয়ে মন্তব্য করেন। সংসদে তিনি বলেন, নতুন নতুন অ্যাঙ্গেলে ভিডিও বানিয়ে জেন জির সমর্থন পাওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল নয়, বদলাতে হবে তার মনের অ্যাঙ্গেল।
লোকসভায় পাস হওয়া প্রশ্নফাঁসবিরোধী বিল নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিজিৎ দিপকে বলেন, শুধু আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। যারা আইন বাস্তবায়ন করবেন, তাদের সদিচ্ছা না থাকলে কোনও লাভ নেই। এ দেশে একের পর এক ভালো আইন হয়েছে, কিন্তু শুধু আইন পাস করলেই সবকিছু বদলে যায় না।
প্রশ্নফাঁসের মামলার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদির ঘোষিত ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিন দিন আগে নরেন্দ্র মোদি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এতে মানুষ ভেবেছিল প্রশ্নফাঁসের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার হবে। কিন্তু কী হলো?
অভিজিৎ দিপকে বলেন, প্রথম শুনানিতেই সিবিআইয়ের আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় শুনানি পিছিয়ে গেছে। তাই যত আইনই করা হোক, যারা তা বাস্তবায়ন করবেন তারা যদি দায়িত্বশীল না হন, তাহলে সেই আইনের কোনও অর্থ থাকে না।
আরটিভি/এসএইচএম




