মাটির নিচে ভয়ংকর কারাগার, যেখানে শ্বাস নেয়াও অপরাধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫ , ০৬:১৯ পিএম


মাটির নিচে এমন এক জগৎ, যেখানে সূর্যের আলো কোনোদিন পৌঁছায়নি। বাতাস সেখানে ভয়ের গন্ধ বহন করে, আর মানুষগুলো যেন বেঁচে থেকেও মৃত। আর ভয়ংকর এই স্থানটির নাম ‘রাকেফেত’। যা ইসরায়েলের গোপন এক কারাগার— যেটি শাস্তির জন্য নয়, বরং চরম ভয়ের এক প্রতীক হয়ে পৃথিবীর চোখের আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে।

বিজ্ঞাপন

১৯৮০-এর দশকে সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধীদের রাখার জন্য তৈরি হলেও, কিছু বছর পরই এটিকে অমানবিক ঘোষণা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর, ইসরায়েলের উগ্র নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির আবার খুলে দেন এই ভয়াবহ কারাগারের দরজা। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বর্তমানে এই কারাগারে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক আছেন কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি। তাদের মধ্যে আছেন হাসপাতালের পোশাক পরা একজন পুরুষ নার্স এবং ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকা একজন তরুণ খাবার বিক্রেতা। দুজনকেই মাটির নিচে, আলোহীন ঘরে দিনের পর দিন সহ্য করতে হচ্ছে অমানবিক নির্যাতন।

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

বন্দিরা জানান, রাকেফেতের প্রতিটি দেয়াল নজরদারিতে ঢাকা থাকে। বাতাস চলাচলের পথ নেই, কোনো জানালাও নেই, আকাশ দেখার সুযোগও নেই। বন্দীরা দিনের পর দিন শ্বাস নিতে কষ্ট পান, ঘুম আসে না এবং আলোবিহীন অন্ধকার ধীরে ধীরে তাদের ভেতরটাকেও মেরে ফেলে। প্রহরীরা কুকুর দেখিয়ে ভয় দেখায়, পা দিয়ে মাড়িয়ে দেয়, আর খাবার দেওয়া হয় এত কম যে শরীর টিকিয়ে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।

আইনি সহায়তা দানকারী সংস্থা পিসিএটিআই (পাবলিক কমিটি এগেইনস্ট টর্চার ইন ইসরায়েল) প্রথম এই গোপন কারাগারের অস্তিত্ব জানতে পারে। তাদের আইনজীবী জেনান আবদু যখন সেখানে ঢোকেন, ভারী অস্ত্রধারী রক্ষীদের পাহারায় নোংরা সিঁড়ি বেয়ে তাকে নামতে হয়। তিনি বলেন, কক্ষের ভিতর ছিল পচা পোকামাকড়, দুর্গন্ধে ভরা বাতাস—যদি আইনজীবীর সঙ্গে এমন আচরণ হয়, তবে বন্দীদের অবস্থা কেমন হতে পারে?

বিজ্ঞাপন

রাকেফেতের বন্দি, সেই নার্সটি জানেন না তিনি কোথায় আছেন। তিনি শুধু জানতে চেয়েছিলেন, তার পরিবার কি এখনো বেঁচে আছে?  আরেকজন তরুণ বিক্রেতা জানতে চেয়েছিলেন, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সন্তান জন্ম দিতে পেরেছেন কি না। উত্তর শোনার আগেই প্রহরীরা তাদের কথোপকথন বন্ধ করে দেয়।

বলা হয়, আলো না দেখার যন্ত্রণা সবচেয়ে গভীর অন্ধকারের চেয়েও ভয়ংকর। রাকেফেতে বন্দি মানুষগুলো সেই অন্ধকারেই বেঁচে আছেন দিনের পর দিন, জীবন যেন সেখানেই থেমে আছে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission