আল আকসা মসজিদে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ইসরায়েলিদের ঢল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:৪২ এএম


আল আকসা মসজিদে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ইসরায়েলিদের ঢল
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলের অবৈধ বসতির প্রায় ২০০ জন বাসিন্দা জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে। তারা কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকে উসকানিমূলক কার্যকলাপে জড়ায়। এতে করে আল-আকসা চত্বরে আবারও উত্তেজনা বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেরুজালেম প্রাদেশিক প্রশাসনের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, একই দিনে সকাল ও বিকেলে দুই দফায় মোট ১৮২ জন অবৈধ বসতির বাসিন্দা প্রবেশ করে কুব্বাতুস সাখরার (ডোম অব দ্য রক) নিকট তালমুদিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। এছাড়া, ওইদিন ৭৭৮ জন বিদেশি পর্যটকও মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী, শুধুমাত্র এই নভেম্বর মাসেই ইসরায়েলের অবৈধ বসতির ৪,২৬৬ বাসিন্দা এবং প্রায় ১৫,০০০ বিদেশি পর্যটক আল-আকসা এলাকায় প্রবেশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এটি পবিত্র মসজিদ প্রাঙ্গণকে ভাগ করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, আল-আকসা মসজিদ পুরো ১৪৪ দুনুম এলাকা মুসলমানদের ইবাদতের জন্য এবং এই মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকা উচিত।

আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের জন্য মক্কা ও মদিনার পর ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে এবং ১৯৮০ সালে শহরটিকে ইসরায়েলের অংশ ঘোষণা করে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। মসজিদটির মরক্কো গেট দিয়ে ইসরায়েলি পুলিশ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় বিভিন্ন সময়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

আল-আকসা মসজিদ শুধু ধর্মীয় নয়, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবেও ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থানসহ একাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে, যা তিনটি ধর্মের ইতিহাসের সাথে গভীরভাবে জড়িত।

উল্লেখ্য, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মিরাজের রাতে মক্কা থেকে আল-আকসায় এসে নামাজ আদায় করেন এবং এ স্থানকে ‘মসজিদুল আকসা’ বা ‘বাইতুল মুকাদ্দাস’ নামে অভিহিত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এ ঘটনা বিশ্বে শান্তি ও ধর্মীয় সংহতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বিষয়ে সজাগ থাকার প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission