ভারতের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘন কুয়াশা ও দূষিত বাতাসের প্রভাবে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আগ্রার তাজমহলে। ঘন কুয়াশার আড়ালে পড়ে বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর এই স্থাপনাটি প্রায় পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়, ফলে তাজমহল দেখার আশায় আসা অসংখ্য পর্যটককে ফিরতে হয়েছে হতাশ হয়ে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তাজমহলের তাজ ভিউ পয়েন্ট এলাকা ঘন সাদা কুয়াশায় ঢেকে রয়েছে। দৃশ্যমানতা এতটাই কম ছিল যে, তাজমহলের অবয়বও স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। এতে হতাশ হন দেশি-বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই তাজমহলকে এক ঝলক দেখার সুযোগ পাননি।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একজন মন্তব্য করেন, ‘উত্তর ভারতের শীত যেন বিশ্বের এক বিস্ময়ের ওপর ভিএফএক্স চালিয়েছে।’ আরেকজন লেখেন, ‘বাস্তবের চেয়ে পোস্টকার্ডেই আমি তাজমহল বেশি দেখেছি।’ কেউ কেউ মজা করে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এটা তাজমহল, নাকি ফগ মহল?’
এদিকে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে আগ্রা জেলা প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আগ্রা জেলার সব সরকারি, বেসরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত ও স্বীকৃত স্কুলে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির ক্লাস চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।
ঘন কুয়াশার প্রভাব পড়েছে অযোধ্যাসহ আশপাশের এলাকাতেও। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সেখানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অযোধ্যায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) শনিবার দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘন থেকে অতিঘন কুয়াশার জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছে। রোববারও এই কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগ্রার যমুনা নদীর তীরে সপ্তদশ শতাব্দীতে মোগল সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয় স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে তাজমহল নির্মাণ করেন। সাদা মার্বেলের তৈরি এই অনন্য সৌধটি তার সূক্ষ্ম কারুকাজ ও নান্দনিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
আরটিভি/এসকে





