চীনের এজেন্ট হিসেবে আমেরিকায় ছদ্মনামে সাংবাদিকতা করার ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন থমাস পকেন দ্বিতীয় নামে এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে চীনে বসবাসকারী ওই মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চীনা কর্তৃপক্ষের জন্য তথ্য সংগ্রহ ও প্রভাব বিস্তারের কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সাংবাদিক থমাস পকেন একটি মার্কিন আদালতে দোষ স্বীকার করেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর তার সাজা ঘোষণা করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
কেন ছদ্মনামে সাংবাদিকতা?
থমাস পকেন দ্বিতীয় ‘টম ম্যাকগ্রেগর’ নামে লেখালেখি করতেন। বাবার সঙ্গে নামের বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য তিনি এই নাম ব্যবহার করতেন। তার বাবা ছিলেন নব্বইয়ের দশকে টেক্সাস রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান এবং পরে গভর্নর পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ২০১০ সাল থেকে চীনে বসবাস করে দেশটির একাধিক রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কাজ করেছেন তিনি।
এসব প্রতিবেদন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে পৌঁছানো হবে জানিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে পকেন চীনা গোয়েন্দা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে ‘ক্যাথি’ নামে এক নারীও ছিলেন। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিবেদন সরবরাহের বিনিময়ে তিনি প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার পেয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সফরের ব্যয়ও বহন করা হয়েছিল।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গ্রেপ্তার
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চীন থেকে ওয়াশিংটনে আসার পর পকেন এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেন, যিনি তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেখানে তিনি ওই ব্যক্তিকে একটি সিম কার্ড দেন এবং চীনের জন্য প্রতিবেদন তৈরির বিনিময়ে ১০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
তদন্তকারীদের দাবি, পকেন বিশ্বাস করতেন ওই ব্যক্তি প্রশাসনে চাকরি পেলে গোপন তথ্য বেইজিংকে সরবরাহ করতে পারবেন। পরে এফবিআইয়ের নজরদারিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকেও তিনি একই ধরনের প্রস্তাব পুনরায় দেন। পরে ওই মাসেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আইন লঙ্গন ও গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা
মার্কিন তদন্ত সংস্থার অভিযোগ, পকেন নিজেকে চীনা এজেন্টদের সঙ্গে এমন ব্যক্তিদের সংযোগকারী হিসেবে দেখতেন, যারা সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম। এ ছাড়া তিনি চীনের উহান শহরের কয়েকজন ব্যক্তির কাছেও বিভিন্ন প্রতিবেদন বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত ও বিচার বিভাগ সম্পর্কে গোপন তথ্য জানতে আগ্রহী ছিলেন।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, বিদেশি সরকারের পক্ষে কাজ করলে ‘ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট’-এর অধীনে নিবন্ধন করতে হয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে অবহিত করতে হয়। তদন্তে দেখা গেছে, পকেন এসব আইনি বাধ্যবাধকতা পালন করেননি। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অবৈধ এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পকেনের আইনজীবীর বক্তব্য
পকেনের আইনজীবী চার্লস বার্নহ্যাম এক বিবৃতিতে বলেন, তার মক্কেল দোষ স্বীকারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করেই চীনের পক্ষে কাজ করার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, পকেনের উদ্দেশ্য ছিল চীনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসারে সহায়তা করা।
বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলছে, বিষয়টি কেবল সাংবাদিকতা বা মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং বিদেশি সরকারের পক্ষে নিবন্ধন ছাড়াই প্রভাব বিস্তার ও তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিল।
সূত্র: গালফ নিউজ
আরটিভি/এমএম



