পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাব প্রদেশজুড়ে শুরু হওয়া তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিপাতে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পর্যটন নগরী মুরি এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে কয়েক ফুট বরফ জমে প্রধান সড়কগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক শ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা আটকা পড়েছেন। পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মুরিতে ইতিমধ্যেই ১৪ ইঞ্চি তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরটিতে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। খবর ডনের।
খাইবার পাখতুনখোয়ার তিরাহ উপত্যকাসহ দুর্গম এলাকাগুলোতে ভারী তুষারপাতের কারণে কয়েক শ বাস্তুচ্যুত পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২ এর ১০০ জনেরও বেশি কর্মী ২৩টি বিশেষ যানবাহন নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। শুক্রবার(২৩ জানুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত ৫০টি যানবাহন ও অন্তত ১০০ জন মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আক্রান্তদের মধ্যে কম্বল ও শিশুদের শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কারাকোরাম হাইওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
আজাদ কাশ্মীরের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যেখানে নীলম উপত্যকায় প্রায় তিন ফুট তুষারপাত হয়েছে। অতিরিক্ত বরফের চাপে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কয়েক ডজন গ্রাম। এমনকি বহু বছর পর কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদেও হালকা তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে যা স্থানীয়দের জন্য বিস্ময় ও আতঙ্ক দুই-ই বয়ে এনেছে। বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এই চরম বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা। ভারী তুষারপাতের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তাগুলো পুনরায় চালু করতে সেনাবাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীরা কাজ করছেন।
আরটিভি/এআর





