যুক্তরাষ্ট্র কখনো বিপদে পড়লে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো পাশে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে প্রকাশ্যে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, অতীতে আফগানিস্তান যুদ্ধে ন্যাটো সেনা পাঠালেও তারা সম্মুখ সমরে লড়াই না করে পেছন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছিল। ট্রাম্পের এমন অপমানজনক মন্তব্যে আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়েই শুরু হয়েছে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এই বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই দাবি ন্যাটোর মূল ভিত্তি ‘আর্টিকেল-৫’ নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে, যেখানে বলা আছে কোনো এক সদস্য দেশের ওপর হামলা মানে পুরো জোটের ওপর হামলা। ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র যখন এই ধারাটি কার্যকর করেছিল, তখন যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ডেনমার্কের মতো দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। ট্রাম্পের অভিযোগ—ন্যাটো জোটের সাহায্য পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত এবং তারা কেবল নামমাত্র সেনা পাঠিয়ে দায় সারে।
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে ডাউনিং স্ট্রিট এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনাদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ থাকা উচিত নয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফগানিস্তানে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় সাড়ে চারশ ব্রিটিশ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার সেনা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। ট্রাম্পের ‘পেছনে থাকার’ তত্ত্বকে তাই ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর জন্য চরম অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন লন্ডনের নীতি নির্ধারকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাব ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরে আস্থার সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন অবস্থান মিত্র দেশগুলোকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
আরটিভি/এআর





