যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে শিশু ও কিশোরদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে নজিরবিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলসে স্থানীয় সময় ২৬ জানুয়ারি এই মামলাটি দায়ের হয়, যেখানে এই তিন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, অ্যালফাবেট ও বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তারা শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত করে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।
মামলার জুরি নির্বাচন ২৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে এবং বিচার কার্যক্রম ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এই মামলা মার্কিন বিচার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এবং এর ফলাফল ভবিষ্যতে একই ধরনের অনেক মামলার জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে।
বাদী পক্ষের দাবি, কমবয়সী শিশুরা ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউব ব্যবহার করে মানসিক অবসাদ, খাবারে অনীহা, মানসিক রোগ ও এমনকি আত্মহত্যার মতো গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। বাদী পক্ষের আইনজীবীরা ১৯৯০-২০০০ দশকে তামাক কোম্পানির বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপের কৌশল ব্যবহার করছেন।
বিচারাধীন মামলার মুখ্য বাদী একজন ১৯ বছর বয়সী মার্কিনী নারী, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তির কারণে মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তার গোপনীয়তা রক্ষার জন্য নামের আদ্যক্ষর ‘কে জি এম’ ব্যবহার করা হয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা ব্যবহারকারীদের মনোযোগ ধরে রাখে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রচার করে। বাদী পক্ষ বলছে, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্ল্যাটফর্মের এলগরিদম এমনভাবে তৈরি করেছে যা শিশুদের আসক্ত করে ফেলে।
অপরদিকে, এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তি দিচ্ছে যে মার্কিন যোগাযোগ নৈতিকতা আইনের ২৩০ ধারা তাদেরকে ব্যবহারকারীদের পোস্টের জন্য দায় থেকে মুক্তি দেয়। তবে মামলায় যুক্তি দেয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো এমনভাবে প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন করেছে যা সরাসরি শিশুদের ক্ষতি করে।
এই মামলার রায় সোশ্যাল মিডিয়া ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আইনজীবী ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইতোমধ্যে স্ন্যাপচ্যাট এই মামলার বাইরে থাকার জন্য আদালতের সঙ্গে গোপন চুক্তি করেছে। তবে এই তিন প্রতিষ্ঠান সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে পারেনি।
আরটিভি/এসকে




