সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মেগাসিটি প্রকল্প ‘নিওম’ নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ‘দ্য লাইন’ শহরটি এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আর্থিক চাপ ও নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ ‘দ্য লাইন’-এর একটি অংশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডাটা সেন্টার হাবে রূপান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০-এর অন্যতম প্রধান প্রকল্প ছিল ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভবিষ্যৎ নগরী। মরুভূমির বুকে নির্মিত এই শহর আধুনিক নগরজীবনের সংজ্ঞা বদলে দেবে এমনই ছিল পরিকল্পনা। তবে প্রকল্পটির বিপুল ব্যয় এখন সৌদি অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং একই সময়ে ২০৩০ সালের এক্সপো ও ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে সৌদি আরবকে একাধিক মেগা প্রকল্পের অর্থ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দ্য লাইনের অবকাঠামো ভিন্নভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগে যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৬ কিলোমিটার নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য ছিল, সেখানে এখন তা কমিয়ে মাত্র ২.৪ কিলোমিটার করা হয়েছে।
খরচ কমানোর জন্য ভবনের উচ্চতা কমানোর প্রস্তাব উঠলেও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। বরং তিনি মূল নকশা অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে পরিবেশবিদরাও এই প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, মরুভূমির বুকে এত বিশাল ও দানবীয় অবকাঠামো নির্মাণ স্থানীয় আবহাওয়া, জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ুর ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের স্বপ্নের শহর ‘নিওম’ ও ‘দ্য লাইন’-এর ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে। এটি আদৌ আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিলাসী নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে, নাকি প্রযুক্তিনির্ভর এআই হাবে রূপ নেবে সে দিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্ব।
সূত্র: এনডিটিভি
আরটিভি/এসকে




