চলতি বছরের পবিত্র হজ মৌসুমে নারী হজযাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া। চলতি বছর দেশটির সরকার হজের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক নারী গাইড বা কর্মকর্তাদের একটি বিশাল বহর পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পূর্ব জাকার্তায় ২০ দিনব্যাপী এক নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এবারের হজ কর্মকর্তাদের ৩৩ শতাংশই নারী, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। খবর আরব নিউজের।
ইন্দোনেশিয়া প্রতি বছর বিশ্বের বৃহত্তম হজ কাফেলা পরিচালনা করে থাকে। ২০২৬ সালেও দেশটি থেকে প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার মানুষ হজে অংশ নেবেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই হজযাত্রীদের মধ্যে ৫৫ শতাংশের বেশি নারী এবং তাদের একটি বড় অংশ বয়স্ক নাগরিক। এই বিপুল সংখ্যক নারী হাজীদের সেবা প্রদান এবং তাদের বিশেষ গোপনীয়তা ও স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলো মমতার সঙ্গে সামাল দিতেই এবার ৫০০ জনেরও বেশি নারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দেশটির নারী ক্ষমতায়ন ও শিশু সুরক্ষা মন্ত্রী আরিফাতুল খইরি ফৌজি বলেন, নারী হাজীদের ব্যক্তিগত কক্ষের সহায়তা বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি তাদের জন্য অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও কার্যকর হবে।
গত ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ প্রশিক্ষণে ১ হাজার ৬০০-এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন। সেখানে তাদের আরবি ভাষা শিক্ষা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং হজের বিভিন্ন ধাপে সৃষ্ট জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলার বাস্তবধর্মী মহড়া প্রদান করা হয়েছে।
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী মোচামাদ ইরফান ইউসুফ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কেবল হাজীদের সেবক নন, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আপনারা ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি। আপনাদের ওপর অর্পিত এই মহান দায়িত্ব পালন করতে হবে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা ও ঐক্যের মাধ্যমে।
২০২৬ সালের মে মাসে শুরু হতে যাওয়া এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য মনোনীত কর্মকর্তারা ফেব্রুয়ারিতে আরও এক দফা ভার্চ্যুয়াল প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। মূলত আধুনিক হজ ব্যবস্থাপনায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে বয়স্ক নারীদের ধর্মীয় সফরকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতেই ইন্দোনেশিয়া সরকার এই সাহসী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আরটিভি/এআর





