যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কা তাৎক্ষণিকভাবে কমেছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্ন নিয়ে উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ৬৭ সেন্ট বা ১ শতাংশ কমে ৬৭ দশমিক ৩৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৬১ সেন্ট বা ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬২ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়ায়।
আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার তাৎক্ষণিক আশঙ্কা অনেকটাই কমে গেছে।
শুক্রবার ওমানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় মতপার্থক্য থাকলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়। এতে করে চুক্তি ভেস্তে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন শঙ্কা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক বাহিনী মোতায়েন করায় উত্তেজনা বেড়েছিল।
উল্লেখ্য, ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন ছিলেন।
উত্তেজনা কমার প্রভাবে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় সূচকই ২ শতাংশের বেশি কমেছে, যা সাত সপ্তাহের মধ্যে প্রথম বড় পতন। তবে শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে ইরান। এতে বোঝা যাচ্ছে, সংঘাতের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
ফিলিপ নোভারের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেব বলেন, দ্বন্দ্বপূর্ণ বক্তব্য অব্যাহত থাকায় তেলবাজারে অস্থিরতা রয়ে গেছে। যেকোনো নেতিবাচক খবর এই সপ্তাহে তেলের দামে ঝুঁকিপূর্ণ প্রিমিয়াম আবার দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার তেল রফতানি থেকে আয় কমাতে পশ্চিমা দেশগুলোর নতুন নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগও বাজারে প্রভাব ফেলছে। শুক্রবার ইউরোপীয় কমিশন রাশিয়ার সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেল রফতানিকে সহায়তা করে এমন সব পরিষেবার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দেয়।
অন্যদিকে ভারতের পরিশোধন কোম্পানিগুলো, যারা আগে রাশিয়ার সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেলের বড় ক্রেতা ছিল, তারা এপ্রিলের জন্য নতুন করে তেল কেনা থেকে সরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে তারা এই ধরনের বাণিজ্য থেকে দূরে থাকতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তিতে সহায়ক হতে পারে।
প্রিয়াঙ্কা সচদেব আরও বলেন, রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল থেকে ভারতের এই সরে আসা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, এপ্রিলের পরেও ক্রয় কম থাকবে কিনা এবং বিকল্প সরবরাহ কত দ্রুত বাজারে আসবে এসব বিষয়েই আগামী দিনে তেলবাজার সংবেদনশীল থাকবে।
আরটিভি/এসকে





