ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

রয়টার্সের প্রতিবেদন

ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান  

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে প্রায় দুই দশক ধরে নির্বাসনে থেকে ফিরে আসার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।নানা কারনেই বাংলাদেশে এবারের নির্বাচন আগের সব নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক হাসিনার পতন ঘটে। প্রায় ১৫ বছর ধরে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। গত কয়েকবারের সাধারণ নির্বাচনে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগেরও সুযোগ পায়নি।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের এই আলোচিত নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জয়লাভ করতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

যদি জনমত জরিপগুলো সত্য হয় তবে বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী মৃদুভাষী এই নেতার ভাগ্যের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাবে। তিনি ২০০৮ সালে দেশ ছেড়েছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তার চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। সে সময়ই তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে পা রাখেন তারেক রহমান। সে সময় বীরের মতো তাকে স্বাগত জানানো হয়। নির্বাচনী প্রচারণায় দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যস্ত সময় পার করেছেন তিনি।

অপরদিকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা এখনো দিল্লিতেই আছেন। তারেক রহমানের মা প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি এবং শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তারেক রহমানের বাবা প্রয়াত জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শেখ হাসিনা ছিলেন নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ মিত্র। অপরদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশকে কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরশীল না করে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা সম্প্রসারণ, খেলনা এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো শিল্পের প্রচারের মাধ্যমে পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধে প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে দুই মেয়াদে অর্থাৎ ১০ বছরের সময়কাল প্রবর্তনের কথা বলেছেন।

তারেক রহমান তার স্ত্রী এবং মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় অবতরণের পর সবকিছু এত দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে যে, তিনি বলেছেন তিনি আসলে সেভাবে কোনো কিছু ভাবার সময় পাননি।

নিজের দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমি জানি না আমরা ঢাকায় অবতরণের পর থেকে প্রতিটি মিনিট কীভাবে কেটে গেছে। এ সময় তিনি জানান, তার মেয়ে জাইমা রহমান বাবার পক্ষে সমর্থন আদায়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।

দৃশ্যপট পরিবর্তন
তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে টেক্সটাইল এবং কৃষি পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন।

দেশে ফিরে আসার পর থেকেই তারেক রহমান নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ ও মামলা থাকলেও এগুলোকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।

রয়টার্সকে তারেক রহমান বলেন, প্রতিশোধ কারো জন্য কী বয়ে আনে? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ থেকে পালাতে হয়। এতে ভালো কিছু আসে না। এই মুহূর্তে দেশে আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো শান্তি ও স্থিতিশীলতা।

শেখ হাসিনার শাসনামলে তারেক রহমান দুর্নীতির মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন এবং বেশ কয়েকটি মামলায় তার অনুপস্থিতিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার এক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার জন্য তাকে ২০১৮ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই হামলায় অনেকেই নিহত ও আহত হন। তবে তিনি শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সব মামলা থেকেই খালাস পেয়েছেন তারেক রহমান।

লন্ডনে নির্বাসিত জীবনযাপনের সময় তিনি তার দলের একের পর এক দুর্দশা দেখেছেন। তার দলের সিনিয়র নেতাদের জেলে পাঠানো হয়েছে, কর্মীরা নিখোঁজ হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দেশে ফিরে আসার পর তারেক রহমান উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন স্টাইল গ্রহণ করেছেন। তিনি আক্রমণাত্মক বক্তব্য এড়িয়ে গেছেন এবং সংযম ও পুনর্মিলনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ‘রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা’ পুনরুদ্ধার এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কথা বলেছেন।

বিএনপির ভেতরে এবং দলের ওপর তারেক রহমানের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরা বলছেন, তিনি প্রার্থী নির্বাচন, কৌশল এবং জোট আলোচনা সবকিছু মিলিয়ে একসময় দূর থেকে যে ভূমিকা পালন করেছিলেন তা এখন সরাসরি তদারকি করছেন।

তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং টিকিয়ে রাখাই তার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র অনুশীলনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের দেশকে সমৃদ্ধ এবং পুনর্গঠন করতে পারি। যদি আমরা গণতন্ত্র অনুশীলন করি, তাহলে আমরা জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারি। তাই আমরা গণতন্ত্র অনুশীলন করতে চাই, আমরা আমাদের দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।

আরটিভি/ এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশিংটনে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান, মঞ্চ মাতাবেন সাগ্নিক সেন
বাংলা ও হিন্দি গানের কালজয়ী সুরসাধক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে (হেমন্ত কুমার) শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বিশেষ সংগীতসন্ধ্যা ‘সুরের আকাশে শুকতারা হেমন্ত’। আগামী ১ নভেম্বর হলিডে ইন এক্সপ্রেস ওয়াশিংটন ডিসি এসডব্লিউ স্প্রিংফিল্ড বাই আইএইচজি’তে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হবে এই অনুষ্ঠান। আমিত আঢ্য এবং মোহাম্মদ নকিবউদ্দিনের আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই সংগীত অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করবেন আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত কণ্ঠশিল্পী সাগ্নিক সেন। বর্তমান সময়ে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরের সার্থক ও শীর্ষস্থানীয় উত্তরসূরি হিসেবে গণ্য করা হয় সাগ্নিক সেনকে। রবীন্দ্র সঙ্গীতের মেলোডি থেকে শুরু করে হেমন্তের কালজয়ী সব ধ্রুপদী গান অত্যন্ত নিখুঁত ও নিজস্ব ভঙ্গিতে পরিবেশনের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়ার বিভিন্ন খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারফর্ম করে সাগ্নিক সেন বিশ্বব্যাপী সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয় জয় করেছেন।  সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য সাগ্নিক সেন একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলিউড থেকে প্রাপ্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘দি অ্যাকাডেমিয়া মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’। সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য ‘সুরের আকাশে শুকতারা হেমন্ত’ হতে যাচ্ছে এক অনন্য ও নস্টালজিক অভিজ্ঞতা, যেখানে সাগ্নিক সেনের সুললিত কণ্ঠে জীবন্ত হয়ে উঠবে অমর শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের চিরসবুজ সুরমালা। আরটিভি/এসআর
ওয়াশিংটনে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান, মঞ্চ মাতাবেন সাগ্নিক সেন
বিমানে শৌচাগারের আয়নায় লেখা ছিল ‘ভেতরে বোমা আছে’, অতঃপর...
থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের কলকাতায় আসা একটি বিমানের শৌচাগারের আয়নায় ‘বিমানের ভেতরে বোমা আছে’ লেখা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কেবিন ক্রুরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণের পর এই ঘটনা ঘটে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ তল্লাশির পরও বিমানে সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, লেখাটি নজরে আসার পরই কেবিন ক্রুরা তাৎক্ষণিকভাবে পাইলট এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। এরপর দ্রুত বিমানটিকে আইসোলেশন বে-তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়।  পরে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ), বম্ব স্কোয়াড ও বিমানবন্দর পুলিশের যৌথ দল বিমানে তল্লাশি চালায়। তবে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পরও ভেতর থেকে কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হয়নি। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, কেবল আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই কেউ এই ভুয়া হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে বিমানের যাত্রী তালিকা ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে শুক্রবারও কলকাতা বিমানবন্দরের ২৩ নম্বর গেটের কাছে নারীদের শৌচাগারে বোমা রাখার হুমকির একটি চিরকুট পাওয়া গিয়েছিল। পরপর দুই দিন এমন বোমাতঙ্কের ঘটনায় ওই বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আরটিভি/এসআর
বিমানে শৌচাগারের আয়নায় লেখা ছিল ‘ভেতরে বোমা আছে’, অতঃপর...
বন্ধুত্ব থেকে চরম শত্রুতা, প্রকাশ্য দিবালোকে রড দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা
ভারতের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ায় বন্ধুকে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যস্ত সড়কে  গাড়িচাপা দেওয়ার পর লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মাথা থেঁতলে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন এক তরুণ।
বন্ধুত্ব থেকে চরম শত্রুতা, প্রকাশ্য দিবালোকে রড দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা
ভানুয়াতুর উপকূলে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উপকূলে ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 
ভানুয়াতুর উপকূলে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি
প্রতিদিন অন্ধ হরিণকে খাবার খুঁজতে সাহায্য করত ১০ বছরের শিশু
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর একটি আবাসিক এলাকায় অন্ধ এক হরিণকে খাবার খুঁজে পেতে প্রতিদিন সাহায্য করত ১০ বছরের এক শিশু।
প্রতিদিন অন্ধ হরিণকে খাবার খুঁজতে সাহায্য করত ১০ বছরের শিশু
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা জাপানের
এমন বডিবিল্ডার বাবা ঘরে ঘরে হোক: তারেক রহমান
কৃষকের ছেলের চোখের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দেশের ৫০০ মেরিন ক্যাডেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ