নির্বাসন থেকে ক্ষমতায়, বাংলাদেশের নতুন নেতার উত্থান

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:৩১ পিএম


নির্বাসন থেকে ক্ষমতায়, বাংলাদেশের নতুন নেতার উত্থান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন আর রাজনৈতিক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হলেন তারেক রহমান। এক সময় অনেকেই যাকে রাজনৈতিকভাবে ‘সমাপ্ত’ বলে ধরে নিয়েছিলেন, সেই তিনিই এখন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে।

বিজ্ঞাপন

গত ডিসেম্বরে লন্ডন থেকে ঢাকা ফেরার পর থেকেই তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যে গণজোয়ার তৈরি করেছিল, তার প্রতিফলন ঘটেছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। শুক্রবার(১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোট গণনা শেষে এটি স্পষ্ট বিএনপি বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।  

চব্বিশের রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের পতনের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে এই নির্বাচনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমান এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের তোলা মৌলিক সংস্কারের দাবিগুলোকে নিজের দলের মূল এজেন্ডা হিসেবে গ্রহণ করেন। প্রচারণায় তিনি নিজেকে ‘জনগণের মানুষ’ হিসেবে তুলে ধরেন এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার ডাক দেন। তার এই কৌশলী অবস্থান তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যা শেষ পর্যন্ত একটি ‘ল্যান্ডস্লাইড’ বা ভূমিধস বিজয়ে রূপ নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার একটি অভিজাত কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর ৬০ বছর বয়সী এই নেতা তার অগ্রাধিকারের কথা জানান। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আমাদের পরবর্তী অগ্রাধিকার হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা, যাতে মানুষ নিরাপদ বোধ করতে পারে। আমরা সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম দিন থেকেই এ নিয়ে কাজ শুরু করব। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছিলেন, ইনশাআল্লাহ বিএনপিই পরবর্তী সরকার গঠন করবে।

এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রনেতাদের নবগঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিসহ ১১ দলের একটি জোট। তবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, তারা বিএনপির ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নিষিদ্ধ থাকায় লড়াইটি মূলত বিএনপির অনুকূলেই ছিল। তবে কিছু শিক্ষার্থী ও বিশ্লেষক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি কি আবারও সেই দুটি প্রভাবশালী পরিবারের বৃত্তেই আটকে যাচ্ছে? যদিও তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তার সরকার দুর্নীতিমুক্ত, শক্তিশালী গণতন্ত্র এবং সবার জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করবে।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমানের এই বিজয় কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং তার পারিবারিক উত্তরাধিকার পুনরুদ্ধারের এক বিশাল সংগ্রাম। তার পিতা জিয়াউর রহমান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং মা খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। যিনি গত ডিসেম্বরে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলের চেয়ারপারসন ছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান তার মায়ের শুরু করা নারী ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে আরও প্রগতিশীলভাবে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর ভোটারদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ঢাকার ব্যবসায়ী মিলন আলমাজী বলেন, তারেক রহমানের ভাষণ, কূটনীতি এবং আচরণ আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ক ও বুদ্ধিমতী। তবে সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ দেখছেন খোদ তারেক রহমানও। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পর ধ্বংসপ্রায় রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন এবং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করাই হবে তাঁর সরকারের মূল পরীক্ষা। আপাতত সারা দেশ অপেক্ষা করছে তার শপথ গ্রহণ এবং পরিবর্তনের নতুন সূর্যোদয়ের।

বিজ্ঞাপন

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission