পাকিস্তানে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, ইসলামাবাদ দূতাবাসের পাশাপাশি লাহোর ও করাচি কনস্যুলেটের সব ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। খবর: আলজাজিরা
বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত শুক্রবার (৬ মার্চ) পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এদিকে রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) করাচিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভকারীরা করাচির কনস্যুলেট এলাকায় জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে অন্তত ১০ জন নিহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত হামলায় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও নিহত হয়েছেন। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই এই বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানে বিক্ষোভ ঠেকাতে সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় তিন দিনের কারফিউ জারি করেছে। গত রোববার (১ মার্চ) বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও বিভিন্ন কনস্যুলেটের নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার (২ মার্চ) ভোরের আগে উত্তরাঞ্চলের গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চলের গিলগিত, স্কারদু ও শিগার জেলায় কারফিউ জারি করা হয়। এসব এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন বিক্ষোভকারী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।
উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে সাতজন গিলগিতে প্রাণ হারান। অপরদিকে একজন চিকিৎসক বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, স্কারদুতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া দেশটির বন্দরনগরী করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে ১০ জন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হন। রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দিকে যাওয়ার পথে আরও দুই বিক্ষোভকারী নিহত হন। সূত্র: আলজাজিরা
আরটিভি/ এমএ




